প্রজাতন্ত্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা উপজেলা পর্যায়ে শাসকের ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশন। তাদের ইঙ্গিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) দিকে। তাদের অভিযোগ, কর্মকর্তাদের আমলাতান্ত্রিক মনোভাব জনপ্রতিনিধিদের কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। জনপ্রতিনিধিদের আলাদা করে কর্মকর্তারা সামন্তবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করছেন। কর্মকর্তাদের আইন পরিপন্থী আচরণ ও কাজের কারণে মাঠপর্যায়ে সমন্বয়হীনতা চলছে।
শনিবার (২ জানুয়ারি) ঢাকা–রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর–রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এসব অভিযোগ করে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার বলেন, আমরা যারা রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের তারাই আজ উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। আজ আমরা প্রশাসনিক ও সামাজিকভাবে মর্যাদাহীন, কর্মহীন। প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। নিজেদের নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে তারা নিশ্চিত হবেন প্রতিটি প্রশাসনিক একাংশের জবাবদিহি ও সুশাসন সম্পর্কে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকলেও ‘প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মকর্তা’ সবকিছু উপেক্ষা করে উপজেলায় শাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তা ব্যতীত অন্যান্য পেশার কর্মকর্তাদের মনোভাব ইতিবাচক। কতিপয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাংবিধানিক নির্দেশনা এবং গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণকে পাশ কাটিয়ে জনপ্রতিনিধিবিহীন জনপ্রশাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
তিনি আরও বলেন, আইনকে বিবেচনায় না নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর বিভিন্ন সময়ে পরিপত্র জারি করছে। যার মাধ্যমে উপজেলার সব বিভাগের কার্যাবলী নিষ্পত্তির জন্য গঠিত প্রায় শতভাগ কমিটিতে ইউএনওকে সভাপতি করা হয়েছে। এই ১৭টি বিভাগের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তাও ইউএনও। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুমোদন ছাড়া সব কাজ কমিটি প্রধানের ক্ষমতাবলে ইউএনও নিয়ন্ত্রণ করছেন। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে কাজ সম্পাদনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একাধিকবার পরিপত্র ও আদেশ জারি করা হয়। কিন্তু উপজেলা পর্যায় এই নির্দেশনা বা আদেশের কোনো প্রতিপালন হয় না বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত হয় ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এরপর উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিবকে লিখিতভাবে এসব বিষয় জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। কিন্তু লিখিত আবেদনের কোনও জবাব পাওয়া যায়নি। ১৫ জন সচিবের কাছে গত ২০ সেপ্টেম্বর নোটিশ ডিমান্ডিং জাস্টিস পাঠানো হয়েছে। এরও কোনও জবাব পাওয়া যায়নি। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সবকিছুতে তাচ্ছিল্য দেখাচ্ছেন বলে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়।
উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে কয়েকটি দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে আছে হস্তান্তরিত ১৭টি বিভাগের কার্যক্রম উপজেলা পরিষদের কর্তৃত্বে পরিচালিত হওয়ার প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রগুলো অবিলম্বে সংশোধন করতে হবে। নির্বাচিত পরিষদের কার্যক্রম বাস্তবায়নে ১৭টি বিভাগের জন্য ভাইস চেয়ারম্যানদের সভাপতিত্বে ১৭টি কমিটি বিদ্যমান রয়েছে, সেগুলো কার্যকর করতে হবে। উপজেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহীকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে ১৭টি বিভাগের কার্যাবলী সম্পাদন করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি গোলাম সারোয়ার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেন এবং আইন সম্পাদক রীনা পারভীনসহ বিভিন্ন উপজেলার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।