ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫০নং ওয়ার্ডের পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন স্বাধীনকে তার পৈত্রিক ভিটা থেকে উচ্ছেদের জন্য বসত বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে ওই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মাসুম মোল্লার বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগে বুধবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থী ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আনোয়ার হোসেন স্বাধীন সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমার ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন হোল্ডিং নং-১৫৯/৩ ও ১৫৯/৩/১ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪ এর মোট ৭৯১ অযুতাংশ জমির সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিয়মতি খাজনা, কর, বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল পরিশোধ করে আসছি। দীর্ঘদিন যাবৎ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদে ভোগ দখলে আছি। উক্ত সম্পত্তির চৌহদ্দির পূর্ব সীমানায় চন্দনকোঠা কমিউনিটি সেন্টার।
গত ২৭ জানুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু-সহ উক্ত চন্দনকোঠা কমিউনিটি সেন্টার সংস্কার ও আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে পরিদর্শন করতে আসেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘পরিদর্শন শেষে মেয়র এবং সংসদ সদস্য বিদায় নেন। ওনারা চলে যাবার পর ৫০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মাসুম মোল্লা ও তার সাথে সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা আমার নিজ সম্পত্তিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্বদেশ ফার্নিচার মার্ট এ নিষ্ঠুরভাবে হামলা চালায়। অতিথিদেরকে বিদায় দিয়ে আমি আমার নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসা অবস্থায় হামলার কারণ জানতে চাইলে ৫০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাসুম মোল্লা ক্ষিপ্ত অবস্থায় আমাকে অবৈধভাবে উচ্ছেদ করার হুমকি দিতে থাকে। তার সাথে থাকা সন্ত্রাসীরা আমার কারখানার মেইন গেইট থেকে ভেতরের সব মালামাল লুটপাট করে নেয় এবং ভাঙচুর করে। অসহায় হয়ে আমি চিৎকার করতে থাকলে মাসুম মোল্লা আমার কোন কথায় কর্ণপাত না করে হুমকি-ধমকি দেয় ও আমাকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন। বলেন যে, দশ দিনের মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জায়গা খালি না করে দিলে আমাকে উচ্ছেদ করা হবে।'
এই আওয়ামী লীগ নেতার অভিযোগ, তার জমি নিয়ে হাইকোর্টে সিভিল রিভিউশন নং ৩০৩৭/২০১৮ চলমান রয়েছে। যাতে আদালত উভয় পক্ষ তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু কাউন্সিলর মাসুম মোল্লা সিটি করপোরেশনের দোহাই দিয়ে আমাকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করেন। এখন পর্যন্ত বারবার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আমি বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনও মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে মাসুম মোল্লার নাম বাদ দিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরিতে নথিভূক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ১৯৯২ সালে ৫০নং ওয়ার্ডের ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলাম এবং ১৯৯৬ সালে ৫০নং ওয়ার্ডের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হই। ২০০৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৫০নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করি। বর্তমানে (প্রস্তাবিত কমিটি) আমি ৫০নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত আছি।
আনোয়ার হোসেন স্বাধীন জানান, ‘আমার বড় ভাই মো. মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ মুরাদ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বরত আছেন। আমার পিতা আলাউদ্দিন কন্ট্রাক্টর তৎকালীন বৃহত্তম ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৯৪ সালে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হয়ে সিটি করপোরেশনের ৫০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ প্যানেলে আওয়ামীলীগ মনোনীত দলীয় প্রার্থীতা নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি কাউন্সিলর মাসুম মোল্লাকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু হিসেবেও আখ্যা দেন।