রাজধানীর বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ি রোডের ৭৯ নম্বরের সাততলা ভবনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে বেশ বেগ পেতে হয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের। শনিবার (২১ আগস্ট) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে আগুনের ঘটনা ঘটলেও দুপুর সাড়ে তিনটার পরও তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে দেখা যায় তাদের। আগুনের পাশাপাশি ধোঁয়ার ব্যাপকতার কারণে ভেতরে টেকাই দুষ্কর হয়ে পড়ে। যারাই ভবনের ভেতরে ঢোকেন মিনিট দশেকের মধ্যেই বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। আসার পরই অগ্নিনির্বাপণের পোশাকটি খুলে তাদের বাতাস করতে দেখা যায়। আগুন নেভাতে গিয়ে ধোঁয়ার কারণে কয়েকজন ফায়ার সার্ভিসকর্মী এ সময় আহত হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফায়ার সার্ভিস কর্মী বলেন, ভেতরে ফাইবারের জিনিসপত্রসহ বিভিন্ন ধরনের কার্টুন মজুত রাখা হয়েছিল। যখন আমরা আগুন নেভানোর জন্য পানি ছিটাই, ঠিক তখনই আগুনের ব্যাপকতায় ব্যাপক তাপ সৃষ্টি হয়। ভেতরে বেশিক্ষণ থাকা সম্ভব হয়নি। আমাদের চলে আসতে হয়েছে। কিছুক্ষণ পরপরই আমাদের কয়েকজন গিয়ে পানি ছিটিয়ে আবার ফিরে আসতে বাধ্য হয়।
দায়িত্বরত ফায়ার সার্ভিসের আরেক সদস্য বলেন, কার্টন ও প্লাস্টিক থাকায় পানি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুনের ব্যাপকতার পাশাপাশি ধোঁয়ার মাত্রা বেড়ে যায়। ধোঁয়ার কারণে কিছুই দেখা যাচ্ছিলো না। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল, ভবনটি থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার কোনও রাস্তা ছিল না।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভবনটির চারতলা ও পাঁচতলায় কোনও জানালা ছিল না। একপর্যায়ে আমরা চারতলা-পাঁচতলার দেয়ালের কিছু অংশ ভেঙে ধোঁয়া বের করে দিই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমিকন নামের প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় তলায় ছিল তাদের গোডাউন। বিভিন্ন ধরনের ক্রেস্ট তৈরি হতো এখানে। দোতলায় ছিল প্রতিষ্ঠানটির শোরুম ও কার্যালয়। অর্ডার পাওয়ার পর তিনতলার গোডাউনে প্রস্তুত হতো এসব ক্রেস্ট। মূলত দাহ্য পদার্থ সংমিশ্রণ করে বানানো হতো ক্রেস্ট। আগুন লাগার পর এসব দাহ্য পদার্থ আগুনের মাত্রা ও ধোঁয়ার ব্যাপকতা বাড়িয়ে দেয়।
পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না উল্লেখ করে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠিত হবে। গোডাউনে কী ধরনের দাহ্য পদার্থ রয়েছে, তা তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: ৪ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে বনানীর আগুন