‘বস্তিতে ফায়ার হাইড্রেন্টের কাজ শুরু হচ্ছে ফেব্রুয়ারিতে’

করোনা মহামারি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নতুন অর্থবছরে (২০২১-২২) ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। একইসঙ্গে নিম্ন আয়ের জনপদ ও বস্তিবাসীর আবাসস্থল নিরাপদ রাখতে ফায়ার হাইড্রেন্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন মেয়র।

ডিএনসিসি বলছে, বিভিন্ন সময়ে অগ্নিকাণ্ডে রাজধানীর বস্তিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যানজট ও সরু গলিসহ নানা সমস্যার কারণে যথাসময়ে আগুন নেভাতে পারে না ফায়ার সার্ভিস। এজন্য প্রাথমিকভাবে কড়াইলসহ প্রধান বস্তিগুলোতে ফায়ার হাইড্রেন্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় উত্তর সিটি করপোরেশন।

মেয়র আতিক বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে এর নির্মাণকাজ শুরু করবো। তবে বেশকিছু প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রয়োজনে বুয়েট থেকে মতামত নেবো।

পানির লাইনে পর্যাপ্ত চাপ আছে কিনা সেটিও দেখতে হবে উল্লেখ তিনি আরও বলেন, এজন্য ওয়াসাকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ বড় বড় বাসা বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টে এই সিস্টেম কার্যকর করা যায়। কিন্তু বস্তি এলাকায় এটা চ্যালেঞ্জিং। আমরা প্রাথমিকভাবে সফল হলে পরের বাজেটগুলোতে আরও বরাদ্দ রাখবো। এর জন্য মাঠপর্যায়ে জরিপসহ বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া হবে।

মেযর বলেন, প্রায়ই দেখি অসচেতনতার কারণে বস্তিগুলোতে আগুন লাগছে। তাই বলে তাদের উচ্ছেদ নয়, বরং পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করা হচ্ছে। এজন্যই নতুন বাজেটে বস্তিতে ফায়ার হাইড্রেন্ট বসানোর কাজ করছি। যাতে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছার আগেই তারা আগুন কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।

প্রসঙ্গত, ফায়ার হাইড্রেন্ট হচ্ছে পানি সংরক্ষণাগারের সঙ্গে সংযুক্ত বিশেষ কল। সাধারণত উন্নত বিশ্বে রাস্তার পাশে এ ধরনের হাইড্রেন্ট দেখা যায়। এই কলের সঙ্গে নল যুক্ত করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পানি ছুড়ে আগুন নেভায়।

মেয়র আতিকুল ইসলাম আরও বলেন, মহামারি করোনা আমাদের জীবনকে বিপন্ন করে দিয়েছিল। অর্থনীতিতেও বিশাল আঘাত হেনেছে দুর্যোগটি। এতে বিত্তবানদের পাশাপাশি নিন্মআয়ের মানুষগুলোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা এই মহামারি ও দুর্যোগ মোকাবিলায় নতুন অর্থবছরে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছি।
 

আরও পড়ুন: হাতিরঝিল নিয়ে মিস প্ল্যান হয়েছে: মেয়র আতিক