পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, দেশে যেকোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুরুষের চেয়ে নারী শতকরা ১৪ দশমিক ১ ভাগ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ক্ষতি কাটিয়ে কীভাবে নারীর অবদানকে আরও উঁচুমাত্রায় তুলে ধরা যায়, সেজন্য সরকার আগামী জুন মাসের মধ্যে একটি জাতীয় অ্যাডাপটেশন বা অভিযোজন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘জলবায়ু মোকাবিলায় গ্রামীণ নারী’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— ব্রিটিশ হাই কমিশনের বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিচালক জুডিথ হারবার্টসন, ঢাকায় সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব কো-অপারেশন মিস কোরিন হেনকোজ পিয়াগিনি, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কে এম তারিকুল ইসলাম এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূত অ্যালেজান্ড্রা বের্গ ভন লিনডে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নারীর জ্ঞান,দক্ষতা এবং সৃষ্টিশীল ধারণা খুবই শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামীণ নারীর দাবীদাওয়াকে উচ্চকিত করার জন্য এবং অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়ার জন্য এমজেএফ কাজ করে যাচ্ছে।’
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ঠেকাতে বীজ সংরক্ষণ, অভিযোজন এবং জলবায়ু সহনশীল কৌশল গ্রহণ করার মাধ্যমে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নারী এবং মেয়েরা কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছেন, তা চিহ্নিত করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনুষ্ঠানে তৃণমূল থেকে নারীরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। তারা বলেন, গ্রামের নারীরা স্বাভাবিক সময়ে এবং দুর্যোগকালেও তাদের সংসার, সন্তান, বয়স্ক মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দেখাশোনার পাশাপাশি রান্না, খাবার পানি যোগাড়, মূল্যবান জিনিসসহ বীজ ও খাদ্য সংরক্ষণের কাজটি করেন। ওয়েবিনারে আরও বক্তব্য রাখেন— দিলরুবা হায়দার, ড. ফজলে রাব্বি সিদ্দিক আহমেদ।