টিসিবির পণ্য নিতে বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘ অপেক্ষা মানুষের

টিসিবির পণ্য নিয়ে ট্রাকগুলো নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর আগে থেকেই রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় অপেক্ষমাণ ছিল সাধারণ মানুষ। ট্রাক আসার সঙ্গে সঙ্গেই লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য নেওয়া শুরু করেন তারা। তবে পণ্য নিতে গিয়ে দীর্ঘ লাইন ও বিক্রির অব্যবস্থাপনা অনেকের মাঝে ক্ষোভ তৈরি করে।

রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় রবিবার (৬ মার্চ) থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে।

মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল সাড়ে ১১টার পর ট্রাকগুলো এসে বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়। এর আগে থেকেই পণ্য নেওয়ার আশায় সাধারণ মানুষকে সেখানে ভিড় করতে দেখা গেছে। অপেক্ষার সময় ক্রেতারা নিজেরাই নাম্বারিং করে অপেক্ষা করছিলেন।

রাজধানীর মিরপুর ৬ নম্বরে দীর্ঘ অপেক্ষার পর পেঁয়াজ,  মসুরের ডাল, তেল কিনতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেন আম্বিয়া বেগম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সাড়ে ১১টার দিকে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখন দুপুর ২টা বাজে। আড়াই ঘণ্টা রোদে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পর অবশেষে সবকিছু ঠিকমতো কিনতে পেরেছি। আজকের জন্য হাসি মুখ নিয়ে বাসায় ফিরছি।

পণ্য নিতে আসা আফরোজা বলেন, অনেকেই লাইনের মধ্যে ঢুকে পড়ছেন। কিছুক্ষণ পরপর শোরগোল তৈরি হচ্ছে। কি আর বলব! সকাল থেকে অপেক্ষা করছি কিন্তু অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছে না।

টিসিবির ট্রাক থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য নিতে আসা রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, জিনিসের দাম প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। আমরা সাধারণ মানুষ বাজার থেকে পণ্য কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। সরকারের এই উদ্যোগটি অবশ্যই ভালো। তবে মান কিরকম সেটা খাওয়ার পর বোঝা যাবে। তবে আশা করছি, গুণগত মান ভালো হবে।

রাস্তার পাশে রিকশা রেখে লাইনে দাঁড়িয়েছেন রিকশাচালক আরিফ মিয়া। তিনি বলেন, তেল এবং পেঁয়াজ কেনার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। অপেক্ষা করছি। দেখি পাওয়া যায় কিনা।

মিরপুরে অবস্থান করা টিসিবির একটি ট্রাকের ম্যানেজার শাহ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা প্রতিজনকে ২ লিটার তেল, ৩ কেজি পেঁয়াজ, ২ কেজি চিনি, ২ কেজি মসুরের ডাল দিচ্ছি। একজনকে একবারই দেওয়া হচ্ছে। একাধিকবার কাউকে দেওয়া হচ্ছে না। আজ থেকে বিক্রি শুরু হলো তা চলমান থাকবে ২৪ মার্চ পর্যন্ত।

তবে এ সময় টিসিবির ট্রাকের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা সিটি করপোরেশনের কাউকে দেখা যায়নি।