তিন ছিন্নমূল শিশুসহ ৮ মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমানে হস্তান্তর

রাজধানীর মহাখালী উড়াল সেতুর নিচে রেললাইনে এক সঙ্গে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যাওয়া তিন ছিন্নমূল শিশুর পরিচয় না পাওয়ায় তাদের মরদেহ আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাছে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১১ অক্টোবর) সকালে বেওয়ারিশ মরদেহ তিনটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গ থেকে হস্তান্তর করা হয়। ওই তিন মরদেহসহ ঢামেক হাসপাতাল থেকে আঞ্জুমানের কাছে আটটি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

রেলওয়ে বিমানবন্দর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক শ্রী সুনীল চন্দ্র সুত্রধর জানান, আমরা পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। এছাড়াও অনেক দিন হয়ে যাওয়ার কারণে মরদেহগুলো রাখা যাচ্ছে না। তাই মরদেহগুলো আঞ্জুমানে দিতে বলা হয়েছে। আজ সকালে দাফনের জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়।’

ইসলামী জনকল্যাণ সংস্থা ‘আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম’-এর পক্ষ থেকে দাফন সেবা অফিসার কামরুল আহামেদ মরদেহ বুঝে নেন। তিনি বলেন, ‘ঢামেক হাসপাতাল থেকে ওই তিন জনের মরদেহসহ মোট আটটি মরদেহ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজন নবজাতক বাকি সাত জন পুরুষ। আমরা মোহাম্মদপুর রায়ের বাজার কবরস্থানে মরদেহগুলোর দাফন সম্পন্ন করবো।’

গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে ট্রেনে কাটা পড়ে ওই তিন ছিন্নমূল শিশ। তারা দক্ষিণ দিক থেকে উত্তর দিকে রেললাইন দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। এ সময় কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তারা।

পরে মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের পর থেকে মরদেহ তিনটি মর্গে মরচুয়ারিতে রাখা হয়েছিল। এরপর থেকে কেউ তাদের খোঁজ নিতে আসেনি বলে জানায় মর্গ সূত্র। তাদের পরিচয় বা ঠিকানা কিছু পাওয়া যায়নি।

পুলিশ তাদের ছবি নিয়ে রেললাইনের আশপাশসহ সব এলাকায় খোঁজ নিলেও কেউ তাদের চিনতে পারেনি। আদৌও তারা ওই এলাকার কিনা অন্যসব ছিন্নমূল শিশুরাও বলতে পারেনি।

এদিকে মর্গ সূত্র জানিয়েছে, ওই তিন জনেরই আলাদা করে ডিএনএ প্রোফাইল (নমুনা) সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে কোনও দাবিদার এলে ডিএনএ প্রোফাইলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আরও পড়ুন...

মহাখালীতে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তিন ছিন্নমূল শিশুর মৃত্যু