পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই, রিকশাচালকসহ গ্রেফতার ৪

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে ঢাকায় আসা মানুষদের টার্গেট করে পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই করে আসছিল একটি চক্র। রিকশাচালকের ছদ্মবেশে যাত্রী তুলে নিজেদের পূর্ব নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যেতো চক্রের কিছু সদস্য। পরে পুলিশ পরিচয়ে তল্লাশির নামে ছিনতাই করতো।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হায়াতুল ইসলাম খান এ সব তথ্য জানান।

এর আগে, বুধবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর বাড্ডা, খিলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো–  মো. দেলোয়ার হোসেন (৪০), মো. কামরুজ্জামান (৫০), জাকির হোসেন ওরফে বড় জাকির (৪৫) ও জাকির হোসেন ওরফে ছোট জাকির (২৫)। তাদের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা ও ছিনতাইকাজে ব্যবহৃত দুটি রিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।

হায়াতুল ইসলাম খান বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গার জীবন নগর থানার দে হাটি এলাকার ব্যবসায়ী সামাদ আলী বিশ্বাস। ঢাকা থেকে কাপড় কিনে নিজ এলাকায় বিক্রি করেন। ঈদকে সামনে রেখে সামাদ আলী তার ছেলে সাইদুর রহমানকে নিয়ে গত ৫ মার্চ ঢাকায় আসেন। চুয়াডাঙ্গা থেকে ট্রেনে কমলাপুরে আসেন তারা। পরে বঙ্গবাজার যাওয়ার জন্য একটি রিকশা নেন। রিকশা চালক বঙ্গবাজার না গিয়ে পথ বদলে শাহজাহানপুর যায়। ওই সময় তিন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে রিকশার গতিরোধ করে। রিকশা থেকে নামিয়ে তল্লাশি চালিয়ে সামাদ আলীর পকেট থেকে এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়।’

তিনি বলেন, ‘যাওয়ার সময় ভুক্তভোগীরা কোনও শব্দ করলে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে শাহজাহানপুর থানায় একটি ছিনতাই মামলা করেন ব্যবসায়ী সামাদ। ওই মামলার তদন্তে নেমে শাহজাহানপুর খিলগাঁও, আবুল হোটেলসহ বিভিন্ন এলাকার ৩৫০টিরও বেশি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ছিনতাই চক্রটিকে শনাক্ত করা হয়।’

ডিসি জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ৫ মার্চ সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে সামাদ ও তার ছেলে উত্তর শাহজাহানপুর সড়কে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিন জন মিলে রিকশার গতিরোধ করে। পরে তারা পুলিশ পরিচয়ে ভুক্তভোগীদের রিকশা থেকে নামিয়ে তল্লাশির নামে পকেটে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর দুটি রিকশায় তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে আত্মগোপনে চলে যায়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাই চক্রের দুই রিকশাচালক বড় জাকির ও ছোট জাকিরকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের মূল হোতা দেলোয়ার হোসেন ও তার সহযোগী কামরুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘রাজধানী বিভিন্ন বাস-ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে রিকশা চালকের ছদ্মবেশে চক্রের সদস্যারা কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে ওৎ পেতে থাকতো। পরে রিকশায় যাত্রী তুলে গন্তব্যে না গিয়ে নিজেদের পূর্ব নির্ধারিত স্থানে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সর্বস্ব লুটে নিতো।’

চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।