গ্যাস সংকটে বিপাকে রাইড শেয়ার চালকরা

‘মাসে ৩০ হাজার টাকা চুক্তিতে প্রিমিও গাড়ি চালাই। আগে সারা মাস গাড়ি চালিয়ে জমা দিয়ে ভালোই থাকতো। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে গাড়ি চালাতে পারছি না। মাঝেমধ্যে গ্যাস পেলেও চাপ কম থাকায় সঠিকভাবে গ্যাস নিতে পারছি না। এতে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।’

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় সিএনজি স্টেশনে চায়ের দোকানে বসে কথাগুলো বলছিলেন ইউনূস মিয়া। তিনি উবার অ্যাপসের অন্তর্ভুক্ত প্রাইভেটকার চালক।

তিনি বলেন, যে গ্যাস পাই, ঢাকার মধ্যে দু-একটা ট্রিপ দিতেই শেষ হয়ে যায়। ঢাকার বাইরে ট্রিপের কথা চিন্তাই করা যায় না। এমন অবস্থায় সংসারে হাহাকার লেগেছে। 

শুধু ইউনূস মিয়া নন, রাজধানীর শত শত উবার, পাঠাও চালকের অবস্থা এনমই। গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজি স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করাতে হচ্ছে। আর গ্যাস যখন পাচ্ছেন তখন ঠিকমতো ট্রিপ হচ্ছে না। এ কারণে তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সরেজমিন দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের মতো আজও সিএনজি স্টেশনে গাড়ির সারি। সিএনজি গ্যাস চালিত প্রাইভেটকারেরও দীর্ঘ সারি দেখা গেছে স্টেশনগুলোতে।  

সানাউল্লাহ নামে এক চালক বলেন, দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার গ্যাস লাগে। সেখানে মাত্র দেড় থেকে ২০০ টাকার গ্যাস আসছে। রাস্তায় কখন গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়, ভয় ভয়ে থাকতে হয়।

সানাউল্লাহ বলেন, রাজধানীজুড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার চালক উবার পাঠাওয়ে অন্তর্ভুক্ত আছেন। গ্যাস না পেয়ে তারা গাড়ি বের করতে পারছেন না।

এদিকে গ্যাসের সংকটে রাজধানীতে প্রাইভেটকার চলাচল কমেছে। যারা অ্যাপ ভিত্তিক গাড়ি ব্যবহার করেন, তারাও পড়েছেন সমস্যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়েও অনেকে গাড়ি পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

বনশ্রীর আব্দুল্লাহ মমেন নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি অ্যাপ ভিত্তিক গাড়িতে চড়েন। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে গাড়ি পাচ্ছেন না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও গাড়ি মেলাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। আবার গাড়ি পেলেও ভাড়া অনেক বেশি।