দাবদাহে পুড়ছে বোরো ধান। পুড়ছে গ্রীষ্মের অন্যান্য ফল ও সবজিও। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকরা। এমন তাপদাহ অব্যাহত থাকলে বোরো, গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি ও ফলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষিবিদরা। বাংলাদেশ কৃষি আবহাওয়া তথ্য সেবা থেকেও তাপপ্রবাহের জন্য বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এসব পরামর্শ মেনে চলার জন্য কৃষকদের অনুরোধ করা হচ্ছে।
বর্তমানে মাঠে রয়েছে বোরো ধান। প্রতিটি মাঠেই ধানে ফুল রয়েছে। কিছু ধান দুগ্ধ আর কিছু ক্ষীর অবস্থায় আছে। এ অবস্থায় তাপমাত্রার প্রভাব যদি ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে চলে যায়, সে ক্ষেত্রে হিটস্ট্রোক দেখা দিতে পারে। বোরো ধান পর্যাপ্ত পানি না পেলে চিটা হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
এই গ্রীষ্মে এখন আম ও লিচুসহ অন্য ফলে গুটি রয়েছে। তা ঝরে পড়তে পারে। বৃষ্টি না হলে শুধু আম নয়, জাম, লিচু, বোরো ধানসহ রবি শস্যের ফলনেও বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
তাপদাহ থেকে ফসল ও ফল-সবজি বাঁচানোর বিষয়ে কৃষিবিদ ড. মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই তাপপ্রবাহের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মাঠের বোরো ধান আর আমের মুকুলের।
ড. মিজান বলেন, তাপপ্রবাহের ক্ষতি থেকে ধান রক্ষার জন্য বোরো ধানের জমিতে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখতে হবে। ধানের শিষে দানা শক্ত না হওয়া পর্যন্ত জমিতে অবশ্যই দুই থেকে তিন ইঞ্চি দাঁড়ানো পানি রাখতে হবে। আমগাছের গোড়ায় পর্যাপ্ত সেচ দিতে হবে। প্রয়োজনে গাছের শাখা-প্রশাখায় পানি স্প্রে করা যেতে পারে। সবজির জমিতে আগামী এক সপ্তাহে মাটির ধরন বুঝে প্রয়োজন অনুযায়ী দুই থেকে তিনটি সেচের ব্যবস্থা করা জরুরি।
চলতি মৌসুমে আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়ে চুয়াডাঙ্গায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকাসহ দেশের সব বিভাগেও আজ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঢাকায় আজ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। আগামী কয়েক দিন এই তাপমাত্রা আরও কিছুটা বেড়ে তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যাওয়ারও শঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।
বর্তমানে বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, ঝিনাইদহ, খুলনা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, মেহেরপুর, নড়াইল, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মৌলভীবাজার জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, এসব জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, ঢাকা ছাড়া রংপুরের আজকের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ দশমিক ৬, রাজশাহীতে ৪০ দশমিক ৫, সিলেট ৩৫ দশমিক ২, ময়মনসিংহ ৩৬ দশমিক ২, চট্টগ্রাম ৩৪ দশমিক ৭, খুলনা ৩৯ দশমিক ৮ এবং বরিশালে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যার প্রায় সব চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
আবহাওয়াবিদ মিজানুর রহমান বলেন, আজ প্রায় সর্ব অঞ্চলে তাপমাত্রা মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এই তাপমাত্রা আরও কিছুটা বাড়তে পারে। অথবা প্রায় একই রকম থাকার কথা রয়েছে। যদি কিছুটা বাড়ে তাহলে গত কয়েক বছরের তাপমাত্রার রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আমরা শঙ্কা প্রকাশ করছি।
তিনি বলেন, আগামী রবিবারের আগে বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা দেখছি না। বৃষ্টি হলেও তা হবে হালকা থেকে মাঝারি। এতে গরম খুব বেশি কমবে না বলেও তিনি অভিমত দেন। এই গরম কমাতে হলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে হবে। এবং অবশ্যই তা টানা কয়েক ঘণ্টার জন্য হতে হবে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
তাপপ্রবাহের এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, দেশের ওপর দিয়ে চলমান মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ ১০ এপ্রিল থেকে পরবর্তী সাত দিন অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।