হেফাজত মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অধীনে একজন মানুষও আততায়ী, সন্ত্রাসী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে বিনা বিচারে নিহত হোক, এটা কোনও বিবেকবান মানুষ কামনা করে না। ইসলামে এ ধরনের গুপ্তহত্যা, অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা, গুম, খুন, বৃদ্ধ, মহিলা ও শিশুহত্যা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, একটি সংঘবদ্ধ গুপ্তঘাতকচক্র দেশে সিরিজ টার্গেট কিলিংয়ে মেতে উঠেছে। সম্প্রতি একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডে দেশের সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কয়েকজন লোক যুক্ত হয়েছেন। পাবনার অনুকূল চন্দ্র ঠাকুর সেবাশ্রমে নিত্যরঞ্জন পাণ্ডে নিহত হওয়ার পর ভারতীয় হাইকমিশনের কূটনীতিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এরপরেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর রানাদাশ গুপ্ত এবং অভিনেতা পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘুদের রক্ষায় ভারতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। গত সপ্তাহে চট্টগ্রামের জিইসির মোড়ে পুলিশ কর্মকর্তা এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু প্রকাশ্য দিবালোকে রাজপথে সন্ত্রাসীদের হাতে মর্মান্তিকভাবে নিহত হন। মহানবী (সা.) যুদ্ধের ময়দানেও নারী, শিশু ও বৃদ্ধকে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। ইসলামের সঙ্গে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোনও সম্পর্ক নেই। ইসলাম সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছে, কিন্তু আমরা লক্ষ করছি কতিপয় ইসলামবিদ্বেষী চক্র পরিকল্পিতভাবে ইসলাম ও সন্ত্রাসবাদকে একাকার করে মুসলমানদের কলঙ্কিত করতে চায়। দেশের কোটি কোটি মানুষকে আতঙ্কে রেখে দেশে কোনও রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা আদৌ সম্ভব নয়। সারাবিশ্বেই সন্ত্রাসবাদ রাষ্ট্রযন্ত্রের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সন্ত্রাস দমনের নামে একসঙ্গে হাজার হাজার মানুষকে গ্রেফতার ও হয়রানি করার নজির আর কোথাও নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করুন। সন্ত্রাসীদের কোনও ধর্ম বা জাতপাত নেই। ওরা শুধুই অপরাধী। কিন্তু নিরপরাধ সাধারণ মানুষকে হয়রানি না করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
শিক্ষানীতি ২০১০ এবং শিক্ষাআইন ২০১৬ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানায় হেফাজত। জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ইসলামি ভাবধারার পাঠগুলো দিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হিন্দুত্ববাদ ও নাস্তিক্যবাদী চিন্তাধারার টেকস্ট প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আমরা সেসবের যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ বিগত ১৬ মে স্মারকলিপির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট পেশ করেছি। দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জাতিসত্তার বিরুদ্ধে এটা ভয়াবহ চক্রান্ত। দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্র নাস্তিক্যবাদ উস্কে দিতেই উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরকারের ভেতরেই ঘাপটি মেরে থাকা বাম ও রামপন্থী একটি কুচক্রী মহল এই কাজ করেছে। স্কুল-কলেজের বর্তমান ইসলামবিচ্ছিন্ন শিক্ষাব্যবস্থাকে আইনি ভিত্তিদান এবং কওমি মাদ্রাসাগুলোকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে সরকার প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন-২০১৬ নামে একটি বিতর্কিত খসড়া আইন প্রকাশ করে তড়িঘড়ি পাস করার উদ্যোগ নিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহী, হেফাজত আমিরের প্রেসসচিব মাওলানা মনির আহমদ, মাওলানা সরোয়ার কামাল আজিজী, মাওলানা হাকীম আবু তাহের আরবী, মওলানা ইউনুস, মাওলানা ইকবাল খলিল, মাওলানা আবু রায়হান, মাওলানা কুতুবুদ্ধিন, মাওলানা ফরিদুল হক, মাওলানা মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।
আরও পড়তে পারেন: ‘বন্দুক, তুমি যুদ্ধ বোঝো, তদন্ত বোঝো না’
/সিএ/এমএনএইচ/