প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ আড়াল করতে চাইছেন: বিএনপি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরবিএনপি দাবি করেছে, ‘বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুৎসামূলক আক্রমণের গুঢ় রহস্য হচ্ছে-গত কয়েকদিন ধরে গণগ্রেফতার ও ক্রসফায়ার নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের যে ক্ষোভ জন্মেছে সেটিকে আড়াল করা।’ দলটি এও মনে করে, জঙ্গি দমনের নামে বিএনপিসহ বিরোধী দল ও সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে যে হিংসার পাশবিকতা ও দমননীতি চালানো হয়েছে এবং ক্রসফায়ার হত্যায় যে রহস্য দানা বেঁধেছে, সেখান থেকে জনগণের দৃষ্টিকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া।
রবিবার দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব বক্তব্য তুলে ধরেন। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএফইউজে ও ডিইউজে (একাংশ) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণে তারেক রহমানকে নিয়ে মন্তব্যে প্রতিবাদ জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বিএনপি।
মির্জা ফখরুল বলেন, তারেক রহমান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তা শুধু অরুচিকর, কুৎসাপূর্ণ, অপসংস্কৃতি, উস্কানিমূলক ও ভয়ংকর প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশই শুধু নয়, তা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর বিষাক্তভাষা প্রয়োগের মাধ্যমে স্বৈরতান্ত্রিক আক্রমণের এক নতুন দৃষ্টান্ত।
শনিবারের ইফতার পার্টিতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-তারেক রহমান লন্ডনে বসে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভাগনি বৃটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও তার বোন শেখ রেহানাকেও নাকি হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই-হত্যার জন্য হুমকি-ধামকি এটা বাংলাদেশের শাসকদলের বৈশিষ্ট্য। উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে এটি কোনোক্রমেই সম্ভব নয়-এটি বর্তমানে কেবলমাত্র বাংলাদেশেই সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, লন্ডনে বসবাসকারী কোনও ব্যক্তি যদি অন্য কাউকে হত্যার হুমকি দেন, সেই ব্যক্তি কি আইনের হাত থেকে রেহাই পেতে পারেন? বৃটেনের সরকারি দল কি বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রের প্রভু হয়ে বসে? বৃটেনে কি সরকারি শাসনযন্ত্রকে বাংলাদেশের মতো অপব্যবহার করা যায়?

তিনি আরও বলেন, সেখানে শাসনযন্ত্রকে কি দুর্নীতির চক্রে ও উৎপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত করা যায়? বারবার গণতন্ত্রকে হত্যা করার দৃষ্টান্ত কি বৃটেনে কয়েক শ’ বছরের ইতিহাসে আছে? সেখানে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কি পাইকারী হারে মিথ্যা মামলা দেওয়া যায়? জনগণের সঙ্গে চূড়ান্ত অবিচার ও বিশ্বাস ভঙ্গ করা যায়? আইনের শাসনের সেই দেশে বাস করে কিভাবে একজন ব্যক্তি সেখানকার একজন এমপি ও তার মা খালাকে হত্যার হুমকি প্রদান করবে?

ফখরুল জানান, লন্ডনে বসে তারেক রহমান হত্যার হুমকি ধামকি দিচ্ছেন সেটা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশ ও বিদেশের কোনও মানুষই কখনোই কোনোদিন শোনেন নি। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ ক্রসফায়ারের হুমকির কথা শুনেছেন, প্রধানমন্ত্রীর তর্জন-গর্জন শুনতে শুনতে এদেশের মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।

তার দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়ার পর পুলিশ হত্যার লাইসেন্স পেয়ে যায়। পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর ক্রসফায়ারের হুমকিকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করে। যার শিকার হয়ে ব্যাংকার, ছাত্রসহ সাধারণ মানুষও ভয়াবহ পুলিশী নির্যাতনে পিষ্ট হচ্ছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার আক্রোশের কারণটি হচ্ছে-শেখ হাসিনা হাজারো কুৎসা ও মিথ্যা প্রচারণা চালানোর পরও তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি মজবুত আসন করে নিয়েছেন, যা অন্য কেউ পারেননি।

ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তারেক রহমান সম্পর্কে গতকাল (শনিবার) প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অহংকার, ঔদ্ধত্য ও অপরিণামদর্শী। তার এই বক্তব্য দেশের মানুষকে স্তম্ভিত করেছে। তার এই বক্তব্য দেশের রাজনীতিতে বিচ্ছেদ, বিনাশ ও ব্যবধানের মাত্রা বাড়িয়ে তুলবে। রাজনৈতিক সঠিকতা অন্ধকারে হারিয়ে যাবে।

এসটিএস/এপিএইচ/

আরও পড়ুন:
টিউলিপকেও ‘থ্রেট’ করা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

অভিজিৎ হত্যায় সন্দেহভাজন শরীফ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত