আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে মেয়র আইভীর সমর্থকদের সঙ্গে হকার ও তার সমর্থকদের সংঘর্ষের সময় উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। হকার ইস্যুতে আজ বুধবার বিকালে নারায়ণগঞ্জে মেয়র আইভীর সমর্থকদের সঙ্গে তার সমর্থকদের সংঘর্ষের পর রাতে এটিএন নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন।
তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলটিকে জানান, ‘আজ যে মাঠে গিয়েছি সেটা আমার পার্টির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে। উনি বলেছেন সেখানে গিয়ে থামাও। আমি বললাম, হকাররা গুলি খাচ্ছে, আমি কী করবো। উনি বললেন, যেভাবে পারো থামাও। আমি সেই নির্দেশে সেখানে গিয়েছি। তখন আমি সেখানে দৌড়ে গিয়েছি। তারপর হকারদের হাতে পায়ে ধরে, তাদের বুঝিয়ে বিচারের আশ্বাস দিয়ে আমি তাদেরকে সরিয়ে নিয়ে এসেছি।’
‘আমি সেখানে গিয়ে বলেছি আমাদের রাজনীতিটাই গরিব মানুষের জন্য। এবং আমরা মনে করি বিকল্প ব্যবস্থা হওয়ার আগ পর্যন্ত যেহেতু ৮৫ শতাংশ মানুষ এদেশে গরিব তাদের এই শীতে শীতবস্ত্র কেনার উপায় নেই, এবং তারা হকার্সদের ওপর নির্ভরশীল। তাই আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদেরকে এখানে বসার সুযোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। এবং আজকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত যদি এর কোনও বিকল্প থাকে সেটা করতে বলেছি। তো উনি ( মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী) সেটা করলেন না।’
এসময় ওই ঘটনায় নিয়াজুল গুলি করেনি বলেও দাবি করেন শামীম ওসমান। তিনি বলেন, ‘একজন ব্যবসায়ী যিনি শিমুল মার্কেট নামে বিশাল এক মার্কেটের মালিক, তিনি ওই সময় নারায়ণগঞ্জ ক্লাব থেকে আসছিলেন, ওই সময় মেয়রের সঙ্গে থাকা সুফিয়ানসহ আরও কয়েকজন পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নিয়াজুল সাহেবের ওপর হামলা করে। হামলা করার পর উনি তার লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। উনি গুলিও করেননি। ওনাকে মেরে ওখানে শুইয়ে অস্ত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যেখানে ঘটনা ঘটিয়েছে তার পাশেই উনার বাসা। তখন ওই এলাকার লোকজন বের হয়ে এসেছে, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব বের হয়ে এসেছে। তখন আরও অনেক লোক জড়িত হয়ে গেছে।’
আইভীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমার কথা হচ্ছে যদি বসতে দিতে না চান সেজন্য আইন আছে, আর আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন , একনেকের বৈঠকে পরিষ্কার বলেছেন, কাউকে উচ্ছেদের আগে পুর্নবাসন করতে হবে। ঢাকা সিটি করপোরেশনে তাই হয়েছে। তো নারায়ণগঞ্জে আলাদা হবে কেন? যে নেত্রী দশ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেন, এবং দেওয়ার পর বলেন, ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারলে দশ লাখকেও খাওয়াতো পারবো, তো এরা কী মানুষ না?’
এসময় এটিএন নিউজের পক্ষ থেকে সংঘর্ষের সময় গুলিকারী নিয়াজুলকে শামীম ওসমানের একনিষ্ঠ কর্মী ও যুবলীগের নেতা বলা হলে এর উত্তরে শামীম ওসমান বলেন, ‘ না। নিয়াজুল সাহেব আমাদের পরিচিত। উনি একজন বিশাল বড় মার্কেটের মালিক। যুবলীগের কর্মী তিনি নন। তার ভাই সুইটকে বিএনপির সময় জেলখানা থেকে বের করে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। এবং বিনা কারণে র্যাব ক্রসফায়ার দিয়ে তাকে মেরেছিল। তার অপরাধ এটুকুই সে সুইটের ভাই। এর বাইরে তার দলীয় আর কোনও পরিচয় নাই। তো একটা বিশাল বড় মার্কেটের মালিক পিস্তল নিয়ে সেখানে গোলাগুলি করতে যাবেন না। ৪০-৫০ কোটি টাকার মার্কেটের মালিক নিশ্চয়ই সেখানে পিস্তল নিয়ে মাস্তানি করতে যাবেন না।
‘আমরা ছবিতে যেটা দেখেছি, উনি আগে অস্ত্র বের করেছেন…’ এটিএন নিউজের পক্ষ থেকে এমনটা বলা হলে এর উত্তরে শামীম ওসমান বলেন, ‘যদি হয়ে থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হোক। সেটা আমাদের ব্যাপার না। আমরা ব্যাপার হচ্ছে আপনি হকারদের ওপর হামলা করলেন কেন? এবং অস্ত্র কখন বের করেছে কেন বের করেছে, একজন মানুষ অস্ত্র বের করবে কেন? সে ধরনের একটা প্রশ্ন থাকে। তার কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে গেল কারা? অস্ত্র নিয়ে তো তাহলে পুলিশের কাছে দেওয়ার কথা। লাইসেন্স করা অস্ত্র তো আত্মরক্ষার্থে বের করার জন্যই দেওয়া হয়েছে। তো সেখানে এই অস্ত্রটা নিয়ে গেল কারা? যে অস্ত্রটা নিয়ে গেল তারাও তো ক্রিমিনাল। যদি অস্ত্র বের করে কাউকে গুলি করা হয় তবে তার অস্ত্র পরীক্ষা করা হোক। যদি গুলি করা হয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এটা পুরো আলাদা বিষয়।’
আমার বিষয় হচ্ছে হকাররাও মানুষ, সে তো কোনও পশু না। রাজনীতি করি মানুষের জন্য। আমার নেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন যতদিন বেঁচে আছো্ গরীব মানুষের জন্য রাজনীতি করো। ভোটের আগে পায়ে ধরবো, আর ভোটের পর লাথি মারবো ওই রাজনীতি আমি শামীম ওসমান করি না।’