বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, দুজন কিশোর শিক্ষার্থীকে হত্যা করার ঘটনায় যে বিস্ফোরণ চলছে তা সরকারের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রকাশ। শুক্রবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে লেবার পার্টির প্রতিনিধি সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
মওদুদ আহমদ বলেন, ‘কোটা আন্দোলন এখনও আছে। এতে ব্যাপক সাড়া দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এবার দুইজন কিশোর শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে। যে বিস্ফোরণ চলছে, এতে সরকারের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রকাশ ঘটিয়েছে শিক্ষার্থীরা। সরকারকে তারা বিশ্বাস করে না। কারণ, সরকার মিথ্যাচার করছে।’
তিনি বলেন, ‘লাখ লাখ শিক্ষার্থী আজ মাঠে নেমেছে। তাদের পেছনে কোনও রাজনৈতিক শক্তি নেই। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের নয় দফা বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের দাবি বাস্তবায়ন হবে না—এই কারণে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন থামায়নি। আজ শিক্ষার্থীরা গাড়ির কাগজ পরীক্ষা করে, এই সরকার অবৈধ সরকার।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকারের প্রতারণামূলক আচরণে দেশের মানুষ মর্মাহত। একদিকে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যেতে বলছে আর অন্যদিকে তাদের রাতের বেলায় আক্রমণ করছে। দেশের মানুষের মধ্যে বিস্ফোরণ হবে। কারণ, দেশে কোনও আইনের শাসন নেই। আর কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ যখন ঘটবে তখন সরকার পালানোর পথ পাবে না।’
মওদুদ আহমদ আর বলেন, ‘দিনে দিনে দেশ আরও দুর্যোগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে ৫০ হাজার মামলা দিয়েছে এবং ১২ লাখ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে সরকার। এই সরকার গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করে না। মৌলিক অধিকার বিশ্বাস করে না। এজন্য তারা ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটানো হচ্ছে। কী করে বিরোধী দলকে নিষ্পেষিত করা যায়, বিশ্বে তার রোল মডেল হচ্ছে এই বর্তমান সরকার।’
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিমানবন্দর সড়কে র্যাডিসন হোটেলের বিপরীতে কালশী থেকে বিমানবন্দরগামী জাবালে নূর পরিবহনের একাধিক বাস প্রতিযোগিতা করে যাত্রী তুলতে গিয়ে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের চাপা দেয়। এতে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী দিয়া খানম মীম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল করিম রাজীব নিহত হন। এছাড়া আরও অন্তত ১২ শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনার জেরে নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তাসহ শিক্ষার্থীদের ‘হত্যার’ বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা।