ইভিএম মেশিন কেনার উদ্যোগ বাদ দিয়ে এই খাতের চার হাজার কোটি টাকা দিয়ে আগামী নির্বাচনে ৪৪ হাজার ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণ যেকোনও মূল্যে আগামী নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহারের অপতৎপরতা প্রতিহত করবে।’ বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা সোয়া ১১টায় খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অধিকাংশ রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতামতকে উপেক্ষা করে এবং দেশের অধিকাংশ আইটি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শকে তোয়াক্কা না করে সরকার ও তার অনুগত নির্বাচন কমিশন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম/ডিভিএম ব্যবহার করার জন্য তড়িগড়ি করে আরপিও সংশোধনের অপকৌশল গ্রহণ করেছে। তাই বিএনপি জনগণের অর্থ লুটপাট ও তাদের ভোটাধিকার হরণে নির্বাচন কমিশনের ইভিএম ব্যবহারের অপতৎপরতা বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হঠাৎ করে কী ঘটলো, কার নির্দেশে এবং কাকে বিজয়ী করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইসি গোপনে এই বিতর্কিত ও সারা বিশ্বে পরিত্যক্ত ইভিএম যন্ত্র কেনার জন্য উঠেপড়ে লেগে গেলো? এই বিতর্কিত যন্ত্র কেনার জন্য ব্যয়িত অর্থ নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায় হিসেবে গণ্য হবে। এই অপকর্মের দায়ভার সম্পূর্ণ ইসিকেই বহন করতে হবে।’ অবিলম্বে ইভিএম যন্ত্র কেনার উদ্যোগ বাতিল করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ইসির প্রতি জনগণের আস্থাহীনতাকে আর ঘনীভূত করবেন না। এ ডিজিটাল কারচুপির পথ থেকে সরে আসুন। অন্যথায় ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে ব্যক্তিগত এই তৎপরতার মূল্য দিতে হবে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘২০১০ সালে নির্বাচন কমিশন ১০ হাজার টাকা দিয়ে একটি ইভিএম যন্ত্র কিনেছিল। সেখানে আরও ২০ গুণ বেশি দামে দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে একটি করে মেশিন কিনতে হচ্ছে। এটা জনগণের অর্থ লোপাটের আরেকটি উদ্যোগ নয় কি? আসলে সরকার ও ইসির একটি অশুভ পার্টনারশিপ। বিষয়টা এমন, তোমরা (ইসি) জনগণের অর্থ লুটপাট করে খাও, আমাদের ভোটে পাস করিয়ে দাও।’
নির্বাচন কমিশন নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আছে কিনা আমরা বুঝতে পারছি না। একমাত্র নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীনই সব কথা বলছে? মাঝে মধ্যে অন্য কমিশনাররা সামনে আসেন। ইসি সচিব হেলালুদ্দীন একজন দুর্নীতিবাজ ও দলবাজ কর্মকর্তা।’
ইভএমের পোল কার্ডে ভোটারদের সব তথ্য সংরক্ষিত থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই পোল কার্ডের মাধ্যমে ভোটের ফলাফল গণনা করা হয়। যেখানে একটি ডুপ্লিকেট পোল কার্ডও থাকে, ফলে আগে থেকে ডুপ্লিকেট পোল কার্ডে ভোটের ফলাফল সেট করে ভোট গণনার সময় তা ব্যবহার করে ফলাফল পাল্টে দেওয়া সম্ভব।’
নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘ব্যালেট পেপার জালিয়াতি রোধে সরকারের মুখাপেক্ষী না থেকে নিজেদের জন্য অত্যাধুনিক প্রিন্টিং প্রেস স্থাপন করুন। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করুন। ভোট গ্রহণকালীন কর্মকর্তাদের সম্মানী ও ঝুঁকি ভাতার ব্যবস্থা করুন। ভোট গ্রহণকালে ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্য প্রতিটি উপজেলা নির্বাচনি অফিসে ভিডিও ক্যামেরা সরবরাহ করুন।’
বিএনপির চলমান ইস্যুকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ইভিএম বিষয়টি সামনে নিয়ে আসা হয়েছে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘আমি সেটা বলবো না। সামনে তো একটা নির্বাচন হবেই। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী আমরা সেটা গ্রহণ করি না করি সেটা মেটারিয়াল ইস্যু না। তবে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা জনগণের সিদ্ধান্ত নয়।’ সরকার জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে এখন যন্ত্রের ওপর ভরসা করে ক্ষমতায় আসতে ইভিএম ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে বলেও যোগ করেন মির্জা ফখরুল।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।