বিএনপি নেতাদের স্পষ্ট ঘোষণা, খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচন নয়

নয়া পল্টনে বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনও নির্বাচন হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন দলটির নেতারা। শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনে দলটির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে এ ঘোষণা দিয়েছেন তারা। তারা স্পষ্টভাবে বলেছেন, কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনও নির্বাচন হবে না।

নয়া পল্টনে বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

সমাবেশে নিরপেক্ষ নির্বাচনে এত ভয় কেন তা জানতে চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দেশে কোনও নির্বাচন হবে না। তাকে বাইরে রেখে কোনও নির্বাচন গ্রহণযোগ্যও হবে না।’

সাবেক এই স্পিকার বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে সফল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। বাংলার ইতিহাস থেকে জিয়ার ইতিহাস মুছে ফেলা যাবে না।’

তারেক রহমান প্রসঙ্গে জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘তিনি দেশে ফিরে এলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত মানুষ জেগে উঠবে।’

সমাবেশের বক্তব্যে দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বিএনপিকে সমাবেশ করতে সরকার বিভিন্নভাবে বাধা দিয়েছে। কাল (৩১ আগস্ট) সারারাত নেতাকর্মীদের বাসায়-বাসায় পুলিশ হানা দিয়েছে। এরপরও জনস্রোত ঠেকাতে পারেনি সরকার।’বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় জনস্রোত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আপনি যদি খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিয়ে পুলকিত হন, তাহলে ধরে নেন, স্বল্প দিনের মধ্যে খালেদা জিয়ার সঙ্গে জেলেই আপনার দেখা হতে পারে। ফলে, তা না করে তাকে মুক্তি দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন দিন, জনগণ যাকে চাইবে, তিনিই সরকার পরিচালনা করবেন।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিলেই যে বিএনপি নির্বাচনে যাবে-কে বললো? সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচনকালীন সরকার নির্দলীয় হতে হবে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে কোনও নির্বাচন হবে না। আগামী দিনে তাকে মুক্ত করেই নির্বাচনে যাবে বিএনপি।’

বিএনপির সমাবেশে আগত দলীয় নেতা-কর্মীদের একাংশ

দলটির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট জয়নাল আবদীন বলেন, আর মাত্র দুটি মামলায় জামিন হলেই আমাদের নেত্রী জেল থেকে মুক্তি পাবেন। দলের আইনজীবীরা গ্রেফতারকৃত নেতাদের আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে মুক্ত করবেন বলে তিনি জানান।

শনিবার দুপুর ২ টা থেকে সমাবেশ শুরু হয়। খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতিষ্ঠাবাষির্কীর সমাবেশ হচ্ছে।

ভাইস চেয়ারম্যান শাসুজ্জামান দুদু বলেন, সাড়ে চার লক্ষ কোটি টাকা দেশ থেকে নাই হয়ে গেছে। এসব টাকা ফেরত দিতে হবে। বেগম জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাবো না।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় জনস্রোত

শনিবার দুপুর ২টায় শুরু হয় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ। এর আগে সকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানান। আগামীকাল রবিবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা হওয়ার কথা রয়েছে।


প্রশাসনকে নিরপেক্ষ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সরকার রক্তচক্ষু দেখিয়ে খারাপ কাজ করতে বাধ্য করছে। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে অতীতের কথা ভুলে গিয়ে নিরপেক্ষ যান।’ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী-কর্মকর্তারাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যারা ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা লুট করেছে, সোনা চুরি করেছে, কয়লা চুরি করেছে, তাদের চিহ্নিত করুন। তারা যেন বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে না যেতে পারে। আর প্রশাসনকে বলবো, যারা বিদেশে সেকেন্ড হোম তৈরি করেছে, তাদের চিহিৃত করুন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন, তারা যেন বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে।’
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেন, ‘বিএনপি এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। তার মুক্তির সঙ্গে নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘এ লাড়াই ১৬ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই। কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকার প্রতারণা করেছে। কোমলতি শিশু কিশোরদের ওপর স্ট্রিম লোরার চালিয়েছে। ৯৩ জনতে গ্রেফতার করেছে, ২৪ জনকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করেছে। এর মাশুল সরকারতে দিতে হবে। আগামী প্রজন্ম আর নৌকার ভোট দেবে না। তারা জেনে গেছে আওয়ামী লীগ একটি ফ্যাসিবাদী দল। তাদের অপসারণ করতে হবে সাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার আইনিভাবে মুক্ত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছি। যখন মুক্তির দারপ্রান্তে আসি, তখনই সরকার অন্য মামলায় আটক দেখিয়ে জামিন বিলম্বিত করছে। তাই তাতে মুক্তির একমাত্র পথ রাজপথ।’

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে এবং সভাপতিত্ব করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন: নয়াপল্টনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জনসভা চলছে