গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপিতে নতুন করে কোন্দল, সভাপতিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

গোপালগঞ্জএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে অস্তিত্ব সংকটে পড়া গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপিতে নতুন করে কোন্দল দেখা দিয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গোপালগঞ্জ-২ আসন থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে এ কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) রাতে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মুনসুর আলী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জেলা বিএনপির সভাপতিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে জেলা বিএনপি ও সকল অঙ্গসংগঠনের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ দলবিরোধী কার্যকলাপ করায়, এলাকায় না আসা, কর্মীদের বিপদে কোনও প্রকারের খোঁজ খবর না নেওয়া, দলীয় কার্যক্রম থেকে সম্পূর্ণরূপে নিজেকে বিরত রাখাসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনোরূপ যোগাযোগ না করে গোপনে নিজ কর্মচারীর মাধ্যমে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার অভিযোগে তাকে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপি অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. মনসুর আলী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সভা ডেকে জেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে দলে অবাঞ্ছিত করা হয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা তার বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ আনায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিকট পাঠানো হয়েছে।

ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, ওই সভায় জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান পিনু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা দল সভাপতি শরীফ রফিকউজ্জামান, জেলা যুবদল সভাপতি শিকদার শহিদুল ইসলাম লেলিন, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দীন লিপটন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি ফজলুল কবির দারা, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হীরা, জেলা ছাত্রদল সভাপতি মো. মিকাইল, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, জেলা শ্রমিক দল সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল্লাহ, জেলা জাসাস সভাপতি অ্যাডভোকেট ইমন, সাধারণ সম্পাদক এসএম মাহামুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কোন্দলের কারণে এখানে বর্তমানে দলটির কর্মী-সমর্থকের সংখ্যা কমে গেছে। বিগত ২০০৯ সালের পর দলটি আর কোনও কমিটিও করতে পারেনি। দিন দিন ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে গিয়ে উপদলীয় কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা। একসময় এমন একটি অবস্থায় দাঁড়িয়েছিল যে, তারা পৃথক তিনটি স্থানে তাদের দলীয় কার্যক্রম চালিয়েছেন। এখনও এখানে রয়েছে দুটি জেলা কার্যালয়। সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সভাপতির তাদের বাসাকে জেলা কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছেন। এছাড়া জেলার কোথাও তাদের অফিস নেই।

সাবেক ও বর্তমান সভাপতি গোপালগঞ্জে এলে তাদের বাসার দরজা খোলা হয়। নিজেদের পক্ষের লোকজন নিয়ে সভা করে থাকেন। এ দুই নেতা থাকেন ঢাকায়। তারা এলেই কেবল কিছু নেতাকর্মী নিয়ে সরগরম হয় বাড়ি দুটি। তারা চলে গেলে আবার বন্ধ হয়ে যায় বাড়ির গেট।

জেলা বিএনপির নিষ্ক্রিয়তার কারণে দলটি দলীয় কর্মকাণ্ড চালাতে পারেনি বিগত কয়েক বছর– একথা স্বীকার করে অঙ্গ সংগঠনের নেতারা জানালেন, বিএনপির কোনও অফিস নেই। যে কারণে তারা দলীয় কর্মকাণ্ড চালাতে পারেননি এতদিন। এজন্য তারা জেলা নেতাদেরও অনেকটা দায়ী করেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি গোপালগঞ্জে তাদের দলীয় অবস্থান ভালো একথা উল্লেখ করে এবারও তিনি গোপালগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবেন বলে জানান। তাকে দল থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা তাকে অবাঞ্ছিত করেছে তাদের কি সেই ক্ষমতা আছে? অথবা দলের সব নেতাদের কি তারা ইজারা নিয়েছেন যে তারা যা বলবেন তা-ই হবে? তিনি এসব নেতাকে সুযোগসন্ধানী উল্লেখ করে বলেন, ‘তাদের গোপালগঞ্জবাসী অনেক দিন আগে থেকেই চেনেন। তাই তারা যে কী বলতে পারেন তা আমার চেয়ে জনগণই ভালো জানেন।’