বিএনপির ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ পেতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন সদ্য বিদায়ী কমিটির অর্ধশতাধিক বিবাহিত নেতাকর্মী। তাদের দাবি, ছাত্রদলের রাজনীতি করার সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রাজপথের ত্যাগী, নির্যাতিত ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের শুধুমাত্র ‘বিবাহিত’ এই অজুহাতে সংগঠনের আসন্ন পূর্ণাঙ্গ কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে।
বুধবার (৩০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রবেশ মুখে তারা অনশন কর্মসূচি শুরু করেন।
আমরণ অনশন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ছাত্রদলের সদ্য বিদায়ী কমিটির সহ-মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা ছিল—ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে (গত ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত) বিবাহিত কেউ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে পারবেন না। তার নির্দেশ মেনে আমরা কাউন্সিলে সহযোগিতা করি। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে—বিবাহিতদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও রাখা হবে না।’
ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার আগেই আপনারা কীভাবে বুঝলেন কমিটিতে বিবাহিতদের রাখা হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা গত কয়েকদিনে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছি। তারা আমাদের বলে দিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিবাহিতদের রাখা হবে না।’
ছাত্রদলের বিবাহিত নেতাকর্মীরা বলছেন, তারা বাধ্য হয়ে আমরণ কর্মসূচি পালন করছেন। তারা জানান, এই কর্মসূচি পালনের আগে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে তারা একাধিকবার বৈঠকও করেছেন। কিন্তু কেউ তাদের স্পষ্ট করে কোনও আশ্বাস দিতে পারেননি। আমরণ অনশনে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে কর্মসূচি পালন করছি।’
নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) আমরা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে বৈঠক করেছি, কিন্তু তিনি আমাদের সুস্পষ্ট কোনও আশ্বাস দিতে পারেননি। এ কারণে বাধ্য হয়ে আমরা কর্মসূচি পালন করছি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাহিদুর রহমান বলেন, ‘‘আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। শুধু ‘বিবাহিত’ এই অভিযোগে কমিটিতে আমাদের রাখা হচ্ছে না। তাহলে এখন আমরা কোথায় যাবো। আর ছাত্রদলের গঠনতন্ত্রে কোথাও লেখা নেই যে বিবাহিতরা সংগঠন করতে পারবেন না।’’
প্রসঙ্গত, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ২৮ বছর পর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন ফজলুর রহমান খোকন। আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ইকবাল হোসেন শ্যামল।