সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অপতৎপরতা চলছে, অভিযোগ মির্জা ফখরুলের

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

নির্বাচনে ইভিএম প্রকল্পে সেনা সদস্য নিয়োগের প্রচার চালিয়ে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অপতৎপরতা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমরা গভীর হতাশা ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, এই চক্রান্ত বাস্তবায়নে আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিকেও ব্যবহার করার ঘৃণ্য অপতৎপরতা চলছে। যার অংশ হিসেবে ইভিএম প্রকল্পে সেনা সদস্য নিয়োগের প্রচার চালিয়ে বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকার ও তাদের বশবর্তী নির্বাচন কমিশন এক গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।’

রবিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিতর্কিত ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতির বিরুদ্ধে বিএনপির অবস্থান শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে দলটি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি রক্ষায় সদা নিয়োজিত বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের শেষ ভরসার স্থল দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে সব বির্তকের বাইরে রাখা সব নাগরিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের দায়িত্ব ও কর্তব্য। আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে যেকোনও ধরনের বিতর্কিত কাজের বাইরে রাখার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে, ইসি যখন নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করে তখন বলা হয়েছিল সেনাবাহিনী থাকবে না। শুধুমাত্র ইভিএমের জন্য সেনা সদস্য থাকবে। অর্থাৎ সেনাবাহিনী অন্য কোনও কাজে থাকবে না। শুধুমাত্র ইভিএমের জন্য তারা সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করছে।

ইভিএমে ভোট হলে কী করবেন প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা পুরো ব্যবস্থাটা বাতিল করার জন্য বলেছি। আমরা দেখবো, এতে নির্বাচন কমিশন কিভাবে রি-অ্যাক্ট করছে। তারপরে আমরা বাকি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।’

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্য বলেছেন, ‘ইভিএম নিয়ে বিএনপি যা বলেছে, এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। প্রয়োজনে বিএনপি বিশেষজ্ঞ নিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে পারে যে ইভিএম মেশিনগুলো ঠিক আছে কিনা।’–এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা ইভিএমে ভোট চাই না। এটাতে ভোট কারচুপির বহু সুযোগ রয়েছে তা আমরা বলেছি। সেই মেশিন যেটাই হোক। এরপর কমিশনের ওই সদস্যের বক্তব্য ধোপে টিকে না। আমরা ইভিএম চাচ্ছি না। মেশিন তো পরের কথা। সবচেয়ে সফিসটিগেটিভ মেশিনে কারচুপির সম্ভাবনা আছে। আপনি রিমোট কন্ট্রোলে ভোট কারচুপি করতে পারেন। আমেরিকান নির্বাচনে সেটা প্রমাণিত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, একথা দিবালোকের মতো পরিষ্কার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিস্ট শক্তি এদেশের জনগণের অধিকারকে পদদলিত করে দীর্ঘকালের জন্য পাকাপোক্ত করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মূলত ‘ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)’ প্রকল্পকে সামনে নিয়ে এসেছে। কেবলমাত্র ইভিএমের মাধ্যমেই দেশের সব মানুষ, দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দল সবাইকে সম্পূর্ণরূপে অন্ধকারে রেখে রাষ্ট্রযন্ত্রের গুটিকতক দায়িত্বপ্রাপ্ত ফ্যাসিস্ট সহযোগীদের যোগসাজশে রাষ্ট্রক্ষমতাকে চিরস্থায়ীভাবে বন্দোবস্ত নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।

এসময় দলটির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, ‘সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে আমেরিকার সবচেয়ে বড় যে কোম্পানি যারা এই মেশিন (ইভিএম) তৈরি করে এবং যারা বিগত বছরগুলোতে ভোটের জন্য এসব মেশিন প্রমোট করেছে, গতবছর তারা নিজেরাই একটা বক্তব্য দিয়েছে। তারা নিজেরাই বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে অফিসিয়ালি ডিক্লার্ড করেছে যে, আমরা এই মেশিন আর বিক্রি করবো না, এই মেশিনের ওপরে কারও আস্থা নাই।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

আরও পড়ুন: 

ইভিএমের তুলনায় ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্য কাগজের ব্যালটেই : মির্জা ফখরুল