শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এক স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি। দলটির সদ্য প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের স্মরণে সভার আয়োজন করে ঢাকা জেলা বিএনপি।
‘বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় নেওয়া যাবে, সেজন্য এ হামলা চালানো হয়েছে’ দাবি করে রিজভী বলেন, ‘এত বোমা ফুটলো, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কিছু হয়নি! আমরা এই ঘটনাকে অবশ্যই একটি মর্মান্তিক ঘটনা মনে করি। যারাই করুক তারা অপরাধী। কিন্তু এখানে বিএনপিকে জড়ানো, তারেক রহমানকে জড়ানোর একটি মাস্টারপ্ল্যান আছে।’
হামলার বিষয়ে শেখ হাসিনা নিজেও জানতেন দাবি করে রিজভী আরও বলেন, ‘উনার বিশ্বস্ত কোনও শক্তি বা ব্যক্তি হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। একজন আইনজীবী হিসেবে যতটুকু দেখেছি, কোথাও কোনোভাবে ন্যূনতম কারণে এই হামলায় তারেক রহমানকে জড়ানোর কোনও স্কোপ নেই। জোর করে তার নাম বলানো হয়েছে মুফতি হান্নানকে দিয়ে। সেই মুফতি হান্নান আবারও ১৬৪ -এ কীভাবে টর্চার করা হয়েছে তার ওপর, আঙুলের নখ তোলা হয়েছে, পায়ের নখ তোলা হয়েছে, সেগুলোর বর্ণনাও দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি দেশে কত ধরনের চক্রান্ত হতে পারে। দেশে ১/১১ এবং আমেরিকায় নাইন-ইলেভেন হয়েছে। যা বুশের সময় হয়েছে। তাই বলে কি বুশ এর সঙ্গে জড়িত ছিল? এই যে বিডিআর হত্যাকাণ্ড আওয়ামী লীগ আসার পরে হয়েছে, এখন আমরা যদি বলি এটার জন্য শেখ হাসিনা দায়ী, শেখ হাসিনা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন? নারায়ণগঞ্জে সাত খুন হয়েছে, আমরা কি বলবো এটার জন্য প্রধানমন্ত্রী দায়ী? আপনি জোর করে ক্ষমতায় এসে সাক্ষীদের নির্যাতন করে তারেক রহমানের নাম বলিয়েছেন। আসল রহস্য এখানে অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে। যদি সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক সরকার আসে আর সঠিক তদন্ত অব্যাহত থাকে, তবে সেটা জানা সম্ভব হবে। তখনই বোঝা যাবে এটার জন্য সত্যিকার অর্থে কারা দায়ী।’
ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবুর সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক প্রমুখ।
আরও পড়ুন-
আমাকে ও আমার পরিবারকে বারবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে: শেখ হাসিনা