‘বাংলাদেশ প্রতিদিনই কোনও না কোনোভাবে আগ্রাসী শক্তির দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। আর এই আগ্রাসন রুখতে মওলানা ভাসানী প্রদর্শিত পথই আমাদের পাথেয়’ বলে বিশেষ বাণীতে উল্লেখ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (১৭ নভেম্বর) মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা বিশেষ বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা ভাসানীর রাজনৈতিক সংগ্রামের আলোকে শোষিত মানুষের পক্ষে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
বাণীতে বিএনপির মহাসচিব উল্লেখ করেন, ‘মওলানা ভাসানী ছিলেন আফ্রো-এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকার নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের কন্ঠস্বর। তিনি ছিলেন বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে উচ্চকিত কন্ঠ।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিদিনই কোনও না কোনোভাবে আগ্রাসী শক্তির দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ, মাটি, মানুষ ও সংস্কৃতির ওপর চলছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিরবচ্ছিন্ন আগ্রাসন। তাই এই মুহূর্তে আধিপত্যবাদী শক্তি এবং তাদের এ দেশীয় প্রতিভূদের রুখতে মওলানা ভাসানী প্রদর্শিত পথই আমাদের পাথেয়। আমরা সেই পথেই অপশক্তির অশুভ ইচ্ছাকে পরাস্ত করতে সক্ষম হবো।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বাণীতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র সুরক্ষায় মওলানা ভাসানী যুগ যুগ ধরে আমাদের প্রেরণা জোগাবে, দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে। আজকে এই দিনে আমি মওলানা ভাসানীর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিবেদিত হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাই।’
মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক দর্শন দেশপ্রেমি শক্তির অনুপ্রেরণা যোগাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া। তারা উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে আদর্শ সংকট চলছে। যে কারণে রাজনৈতিক ময়দানে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। জাতি অভিভাবক শূন্যতা বোধ করছে। আর এ শূন্যতার মধ্যে ধ্রুবতারার মতো জ্বলজ্বল করছেন মওলানা ভাসানী।’
মওলানা ভাসানীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ২০ দলীয় জোট শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি সভাপতি আবদুল করিম আব্বাসী ও মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘মাওলানা ভাসানীর সংগ্রাম ছিল সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে। তার সংগ্রাম ছিল স্বৈরশাসক পাকিস্তানের বিরুদ্ধে, একাইভাবে ভারতের আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর গণতন্ত্রবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তার কণ্ঠ ছিল সোচ্চার।’
বিবৃতিতে এলডিপির (একাংশ) নেতারা বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যের প্রতীক খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে এবং ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মাওলানা ভাসানীর অসমাপ্ত কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে।’