বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ের প্রতিযোগিতা, অসন্তোষ সালাহ উদ্দিনের

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সামনে আগে কথা বলার প্রতিযোগিতা নিয়ে ছোট দলগুলোর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ।

এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার একপর্যায়ে ব্রিফ না করেই বাইরে চলে যান তিনি। পরে বিএনপির সমমনা দলগুলোর নেতা  ও সিনিয়র সাংবাদিকদের অনুরোধে ফের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে ফিরে আসেন।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের বৈঠকের ১১তম দিনের অধিবেশন শেষে এ ঘটনা ঘটে।

প্রতিদিন বৈঠক শেষে প্রথমে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ। এরপর রাজনৈতিক দলের নেতারা। তবে প্রায় দিনই একজনকে ডিঙ্গিয়ে আরেক দলের নেতাদের মধ্যে কথা বলার প্রতিযোগিতা দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার বৈঠক শেষে বিকাল সোয়া ৫টায় প্রথমে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ ব্রিফ করে চলে যান। এরপর গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি কথা বলা শুরু করেন। এরই মধ্যে কয়েকটি দলের নেতারা আগে কথা বলার জন্য মৃদু বচসায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

এ সময় লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বারবার তাগাদা দেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ ‘অসুস্থ’ বলে তাকে আগে সুযোগ দেওয়ার জন্য। কিন্তু অন্যরা তাদের তাগাদায় পাত্তা দেননি।

জোনায়েদ সাকির পরপরই সংবাদ সম্মেলনে বসে পড়েন ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন। তিনি একনাগাড়ে কথা বলতেই থাকেন। তখন সালাহ উদ্দিন আহমেদ তাকে লক্ষ্য বলেন—‘পীর সাহেবকে কেউ ডিস্টার্ব কইরেন না।’ আশরাফ আলী আকন শেষ না করতেই বসে পড়েন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। এরপর সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। এরপর সোফায় বসে সিরিয়াল নেওয়ার চেষ্টা করেন এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. (অব.) হাসান সারওয়ার্দী ও গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য শাকিল উজ্জামান।

এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে বের হয়ে যান সালাহ উদ্দিন আহমেদ। এই ফাঁকে বসে পড়েন জামায়াতের হামিদুর রহমান আযাদ। অবশ্য সালাহ উদ্দিনের চলে যাওয়ার বিষয়টি তিনি লক্ষ করেননি।

সালাহ উদ্দিন আহমেদ গাড়িতে উঠে চলে যেতে চাইলে সিনিয়র সাংবাদিকরা তাকে অনুরোধ করেন না যাওয়ার জন্য। তখন তিনি বলেন, ‘বিএনপির তো সিরিয়ালই নেই। আমাদের দাঁড় করিয়ে রেখে ছোট ছোট দল বসে পড়ে।’ তিনি বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।