ঐকমত্য কমিশন ‘বিলম্ব কমিশনে’ পরিণত হয়েছে: এনডিএম মহাসচিব

জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম মহাসচিব মোমিনুল আমিন বলেছেন, ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ঐক-বিলম্ব কমিশনে পরিণত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার সুষ্পষ্ট বক্তব্য এবং তাদের টার্মস অব রেফারেন্স অনুযায়ী যেসব বিষয়ে সব দল ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবে সেগুলোই জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা। অথচ তারা প্রতিনিয়ত ঐকমত্যে না আসা বিষয়ে নতুন প্রস্তাবনা নিয়ে এসে কালক্ষেপণ করছে।

সোমবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় দফায় ১৩তম দিনের সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মোমিনুল আমিন প্রশ্ন রাখেন, গত ৬ মাসে ঐকমত্য কমিশনের পেছনে রাষ্ট্রের কত অর্থ খরচ হয়েছে জাতি সেটা জানতে চায়।

তিনি বলেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসন বিলুপ্ত করে ৩০০ আসনে কোনও দল মনোনয়ন দিলে বাধ্যতামূলকভাবে তার মধ্যে ১০০ আসনে নারী প্রার্থী দেওয়ার বিধান প্রস্তাব করেছে কমিশন। এটা বাস্তবতা বিবর্জিত। এই ১০০ আসনে নারী প্রার্থী বিজয়ী হয়ে আসবে তার নিশ্চয়তা কে দেবে? নাকি কমিশন নারী প্রার্থী বিজয়ী করতে হাসিনার মতো বিতর্কিত নির্বাচন করতে চায়?’

এনডিএম মহাসচিব বলেন, ‘২০২৪ সালের ডেটা অনুযায়ী পৃথিবীর বর্তমান সংসদ সদস্যদের মধ্যে ২৭ শতাংশ নারী এবং পৃথিবীর ৬টি দেশ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে লিঙ্গ সমতা অর্জন করেছে। এগুলো আইন করে হয়নি বরং সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সেসব দেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে। ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব বাংলাদেশের বাস্তবতায় বাস্তবায়ন করতে গেলে অনেক সংসদীয় আসনে নারী প্রার্থী সংকটের কারণে কোনও নির্বাচনই হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘নারীর প্রতিনিধিত্ব সংসদে নিশ্চিত করতে হলে শুধু রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাবান নারী বা নেতার স্ত্রী-নারী বন্ধু দিয়ে সংসদ ভরলে হবে না। আমরা সংরক্ষিত ১০০ নারী আসনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রস্তাব করেছি।’