সব কিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। ইতোমধ্যে মেডিক্যাল বোর্ড ও বিএনপির পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তার সঙ্গে কারা যাবেন তাও ঠিক করা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার লন্ডনযাত্রায় মনঃক্ষুণ্ণ হলেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। দোয়া ও প্রার্থনায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন তারা। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অনেকে বলছেন, যেকোনও বিনিময়ে আরেকবার দলীয় প্রধানকে সুস্থ দেখতে চান তারা।
এদিকে খালেদা জিয়াকে স্থানান্তর ঘিরে এভারকেয়ারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ভেতরে ও প্রধান ফটকের সামনে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সদস্যরা। বাইরেও তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তবে হাসপাতালের বাইরে বেড়েছে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের সুস্থতা কামনা করে দেশের বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিল অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে শুক্রবার দেশব্যাপী দোয়া মাহফিলের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।
মেডিক্যাল বোর্ড ও দলীয় প্রস্তুতি
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এরপরই মেডিক্যাল বোর্ড ও বিএনপির পক্ষ থেকে যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়। তাকে ছাড় দেওয়ার বিষয়েও কাজ করছে এভারকেয়ার কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাত অথবা শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে তাকে বহনকারী কাতার সরকারের দেওয়া এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে যাবেন আরও ১৪ জন।
তারা হলেন খালেদা জিয়ার প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান, চিকিৎসক আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, ডা. ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকী, ডা. মো. শাহাবুদ্দিন তালুকদার, ডা. নূর উদ্দিন আহমদ, ডা. মো. জাফর ইকবাল, ডা. মোহাম্মদ আল মামুন, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) হাসান শাহরিয়ার ইকবাল, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সৈয়দ সামিন মাহফুজ, তারেক রহমানের সহকারী মো. আবদুল হাই মল্লিক, সহকারী ব্যক্তিগত সচিব মো. মাসুদুর রহমান, গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম ও গৃহকর্মী রূপা শিকদার।
নিরাপত্তা জোরদার, হাসপাতালে বহিরাগতদের প্রবেশে কড়াকড়ি
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর থেকেই এভারকেয়ার হাসপাতালে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বহিরাগতদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। তল্লাশি করে বৈধ কার্ডধারী ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে গত কয়েক দিনের তুলনায় রোগীর স্বজনদের চাপ কিছুটা কমেছে। তল্লাশি করে বৈধ কার্ডধারী ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে গত কয়েক দিনের তুলনায় রোগীর স্বজনদের চাপ কিছুটা কমেছে।
হাসপাতালের সামনে অবস্থানকারী কয়েকজন রোগীর স্বজন জানান, এতদিন তারা অনায়াসে হাসপাতালে যেতে পেরেছেন। হবে দুপুরের পর থেকে তা সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। তাই অনেকে প্রবেশ করতে পারছেন না। তবে কার্ড থাকলে যাওয়া যাচ্ছে।
সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারের পরীক্ষামূলক অবতরণ ও উড্ডয়ন
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার পর এভারকেয়ার হাসপাতালসংলগ্ন দুটি মাঠে সেনা ও বিমানবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার পরীক্ষামূলক অবতরণ-উড্ডয়ন করেছে। তবে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এখান থেকে হেলিকপ্টারে করে খালেদা জিয়াকে শাহজালাল বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে উঠানো হবে।
অবশ্য এর আগে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সরকারের পক্ষ থেকে এসএসএফের নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী এসব হেলিকপ্টার ওঠানামার বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
হাসপাতালের সামনে বাড়ছে নেতাকর্মীদের ভিড়, আবেগঘন প্রতিক্রিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে লন্ডন নেওয়ার সিদ্ধান্তের খবর প্রচারের পর দুপুর থেকেই এভারকেয়ারের সামনে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে এর পরিধি সামনের দুই রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে দলীয় প্রধানের বিদায় ও অসুস্থতায় মনঃক্ষুণ্ণ হলেও সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বলে জানিয়েছেন। তারা বলেন, যেকোনোভাবে তারা আরেকবার দলীয় প্রধানকে সুস্থ দেখতে চান।
রাজধানীর খিলগাঁও থেকে হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়েছেন সত্তরোর্ধ্ব লুৎফর রহমান। তিনি জানান, গত কয়েক দিন থেকেই সেখানে অবস্থান করছেন। তার আক্ষেপ জীবদ্দশায় খালেদা জিয়া যেন আরেকবার সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন। এ জন্য লন্ডনে নেওয়ার সিদ্ধান্তে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তার মতো আরও অনেক নেতাকর্মীই এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।