আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদকমণ্ডলীর দুই সদস্য জানান, উত্তর সিটিতে শেষপর্যন্ত মেয়র হিসেবে প্রার্থী বেছে নিতে পারে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কোনও ব্যক্তিত্বকেও। আনিসুল হকের পরিবারের সদস্যদের নিয়েও দলের কারও কারও মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী সূত্রগুলো বলছে, এ রকম পরিস্থিতিতে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পরিবারকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। আনিসুল হকের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও প্রার্থী খোঁজা হতে পারে।
এদিকে আওয়ামী লীগের দুই নেতা সালমান এফ রহমান ও সাবের হোসেন চৌধুরীর ব্যাপারে গুঞ্জন রয়েছে। তবে নীতি-নির্ধারণী অনেক নেতা বলেন, এই দুই জনের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা একবারেই নেই। এরপরও প্রার্থী খুঁজে বের করতে জটিলতা হবে না। মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেকে আছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটির উপ-নির্বাচনে অতীতের মতোই পরিচ্ছন্ন, জনপ্রিয় প্রার্থীকেই বেছে নেবে আওয়ামী লীগ।’ তিনি বলেন, ‘প্রার্থী মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ড। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সেখান থেকেই আসবে।’
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘মাত্র দুই দিন আগে মেয়র আনিসুল হক মারা গেছেন। এখনই এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না। শোকটা অন্তত শেষ হোক।’ তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আওয়ামী লীগ অতীতের মতো ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেবে।’
উল্লেখ্য, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশেনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক গত বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) লন্ডনে মৃত্যুবরণ করেন।
আইন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির ভেতরে ঢাকা উত্তর সিটির করপোরেশনের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী কোনও সিটির জনপ্রতিনিধির আসন শূন্য হলে ওই দিন থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্য-বাধকতা রয়েছে। সেই হিসেবে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।