বিএনপির ‘হামলার’ প্রতিবাদে ‘শান্তি সমাবেশ’ করবে আ.লীগের তিন সংগঠন

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ-পশ্চিম গেটে আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) ‘তারুণ্যের জয়যাত্রার সমাবেশ’ ডেকেছিল আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ। তবে এই কর্মসূচির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই কর্মসূচিতে যোগ দেবে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম আরও দুই সংগঠন। 

সারা দেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপি হামলা করছে দাবি করে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের যৌথ আয়োজনে ‘শান্তি সমাবেশ’ ডাকা হয়েছে। সোমবার (২৪ জুলাই) এ নিয়ে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিন সংগঠন। এতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে নেতাকর্মীরা জড়ো হবেন, ১টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিকাল ৩টা থেকে সমাবেশ শুরু হবে।

গত ২২ জুলাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ থেকে ২৭ জুলাই ঢাকায় ‘মহাসমাবেশ’ করার ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। অন্যদিকে আজ সোমবার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ-পশ্চিম গেটে ‘তারুণ্যের জয়যাত্রার সমাবেশ’ করার ঘোষণা দিয়েছিল যুবলীগ। তবে সেই সিদ্ধান্ত রবিবারই পরিবর্তন করে সংগঠনটি। তারা জানায়, বৃহস্পতিবার এ কর্মসূচি পালন করবে যুবলীগ, যেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি থাকবেন।

এদিকে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর থেকে রাজধানীতে বিএনপির কর্মসূচির দিন ‘শান্তি সমাবেশ’ নামে কর্মসূচি পালন করে আসছে আওয়ামী লীগ। এতদিন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের ব্যানারে এসব কর্মসূচি পালন করা হচ্ছিল। গত ২২ জুলাই প্রথমবারের মতো যুবলীগ আলাদা কর্মসূচি পালন করে। ওই দিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নিজ জেলা নোয়াখালীতে ‘শান্তি সমাবেশে’ ছিলেন। 

বিএনপির সমাবেশের পাল্টা সমাবেশ করছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন খান নিখিল আজ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। রাজনৈতিক দল হিসেবে সহাবস্থানে থেকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করবো।’

সাপ্তাহিক কর্মব্যস্ততার দিনে দুই দলের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি স্থান জানালাম। পরবর্তীতে স্পট পরিবর্তন করতে পারি।’

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত লিখিত বক্তব্যে মাঈনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এই বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন হবে। নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনে দেশবিরোধী চক্র, প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী আবারও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অগ্নিহত্যার ড্রেস রিহার্সেল হিসাবে তারা ঢাকা শহরে অন্যতম বিদ্যাপীঠ বাঙলা কলেজে সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর অতর্কিতে হামলা চালিয়ে জ্ঞানের আলো লাইব্রেরি ভাঙচুরসহ ছাত্রীদের ওপর হামলা ও শ্লীলতাহানি করে। যার ধারাবাহিকতায় বগুড়ায় একই দিনে ইয়াকুবিয়া বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা করে শতাধিক ছাত্রীকে আহত করে। খাগড়াছড়ি ও লক্ষ্মীপুরে শান্তি সমাবেশে হামলা করে শতাধিক মানুষকে আহত করে।’ 

তিনি বলেন, গত ২১ জুলাই যুবলীগের খুলনা বিভাগীয় ‘তারুণ্যের জয়যাত্রা’ সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে নড়াইলের পেরুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আজাদ শেখকে ওত পেতে থাকা বিএনপি-জামায়াতের সঙ্ঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে হত্যা করে। একই দিনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের অন্তর্গত ১২ ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা শেখ ওয়ালিউল্লাহ রুবেলকেও নির্মমভাবে হত্যা করে। গত ৩০ এপ্রিল, তিতাস উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জামাল হোসেন এবং গত ৩০ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন পাটোয়ারীকে নির্মমভাবে হত্যা করে বিএনপি-যুবদল-ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা।

তিনি আরও দাবি করেন, গত ২৫ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান ও যুবলীগ নেতা রাকিব ইমামের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও বিএনপি-জামায়াতের সম্পৃক্ততা রয়েছে। গত ২১ জুন কুমিল্লা জেলার লাকসাম পৌরসভা শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইফতেখার অনিক বিএনপি-যুবদল-ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের বর্বর হামলায় নিহত হন। 

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এর আগে বগুড়া শহর শাখা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাহিদ হাসান ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. রমজান আলীকে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে হত্যা করে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক অফজালুর রহমান বাবু, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান ছিলেন।