ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আমন্ত্রণে দিল্লি সফরে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের ৫ সদস্যদের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। রবিবার (৬ আগস্ট) এই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে ঢাকা ছাড়বেন। প্রতিনিধি দলটি সফর শেষে আগামী ৯ আগস্ট রাতে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
শনিবার (৫ আগস্ট) গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে ড. আব্দুর রাজ্জাক জানান, বিজেপির আমন্ত্রণে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল সৌজন্য সফরে যাচ্ছে। এ সফরে সরকারি ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কয়েকটি বৈঠক করবেন তারা। এতে পারস্পরিক চিন্তার বিনিময়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কার্যনির্বাহী সদস্য সদস্য মেরিনা জাহান ও সংসদ সদস্য আরমা দত্ত।
আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের ভারত সফরে যাওয়ার কথা ছিল জুলাই মাসে। সেই সিদ্ধান্ত বদলে আগস্টে দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল যাচ্ছে প্রতিবেশী দেশটিতে।
দলীয় সূত্র বলছে, এই সফর গত ২০ জুলাই হওয়ার কথা থাকলেও প্রথম দফায় তা পিছিয়ে ২৯ জুলাইয়ে নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সময়সূচি ফাঁকা না থাকায় দ্বিতীয় দফায় সফরটি পেছানো হয়।
প্রতিনিধি দলের একজন সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদের এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং বিজেপির সভাপতি জে পি নাড্ডাসহ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লি সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সংক্রান্ত আমন্ত্রণ এরইমধ্যে জানিয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার।
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলো সাম্প্রতিক সক্রিয়তার বিপরীতে ভারতের তৎপরতা সেভাবে চোখে পড়ছে না বলে মনে করছেন কেউ কেউ। অবশ্য গত বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যা কিছু ঘটছে, তার ওপর নিবিড় নজর রাখছে ভারত। দেশটি চায় এই নির্বাচন পরিকল্পনা অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত হোক।
আরও পড়ুন: