বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেছেন, ‘বিএনপি হিংসার রাজনীতি করে, বাংলা ভাইয়ের মতো জঙ্গি সৃষ্টি করে। বোমাবাজির রাজনীতি করে, হত্যার রাজনীতি করে, লাশের রাজনীতি করে। বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল, যারা পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা এবং একটা এলিট শ্রেণির স্বার্থ রক্ষা করে নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য। আজ বাংলার যুবসমাজ বিএনপির রাজনীতি এদেশে নিষিদ্ধ করার দাবি করছে। বিএনপির রাজনীতি নিষিদ্ধ করা এই প্রগতিশীল ও উন্নয়নশীল বাংলাদেশের সময়ের দাবি।’
শুক্রবার (২৫ আগস্ট) বিকালে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ অফিস ভবন অডিটোরিয়ামে ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের উদ্যোগে ‘১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টে শহীদদের স্মরণে’ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল ও সঞ্চালনা করেন, সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন।
যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, ১৫ আগস্টের ঘটনা শুধু একটা রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ছিল না, এটি ছিল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে জন্মের পরেই গলা টিপে হত্যা করা, নবজাতক দেশকে শেকলে বেঁধে ফেলা এবং নব্য উদ্ভাসিত জাতিসত্ত্বার পরিচয় মুছে ফেলা। ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে নিকৃষ্ট এবং বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড। কারণ এই হত্যাকাণ্ডের নির্বিচারে শিকার হয়েছিল এমন একটি পরিবার যারা আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল।
খালেদা জিয়ার উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ১৫ আগস্টে আপনি কীভাবে জন্মদিন পালন করেন? আপনি নাকি দেশনেত্রী! আওয়ামী লীগ এদেশের একটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দল, এদেশের জনগোষ্ঠীর একটি বৃহৎ অংশ বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসে, নেতা মানে। তাহলে আপনি কীভাবে সেই জনগোষ্ঠীকে অবহেলা, উপেক্ষা করে জন্মদিন পালন করেন?
৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকে বিএনপি স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছে কীভাবে শেখ হাসিনাকে হত্যা করা যায়- এই অভিযোগ করে তিনি বলেন, সেই মানসিকতা থেকেই তো ২১ আগস্ট ঘটাতে চেয়েছিলেন। শুধু শেখ হাসিনা নয়, আপনাদের টার্গেট ছিল এদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দলের প্রথম সারির সব নেতৃবৃন্দকে হত্যা করা। ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এদেশের রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সংস্কৃতি ধ্বংসের পেছনে এককভাবে দায়ী।
তিনি যুবলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, বিএনপির কোনও শক্তি নাই, সাহস নাই। জনগণের অধিকার খর্ব করার জন্যই ওরা রাজনীতির মাঠে নেমেছে। রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার জন্য ওরা মাঠ গরম করার চেষ্টা করছে। আর কিছু না। একটা উন্নত বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার বাঙালির অধিকার ও স্বপ্ন ওরা নস্যাৎ করতে চায়। তাই বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে সজাগ, সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে, যাতে করে আমাদের আগামীর প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ওরা ধ্বংস করতে না পারে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, এদেশের তরুণ সমাজ, যুব সমাজ ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার খুনি, ১০ ট্রাক অস্ত্রের চোরাচালান মামলার আসামি, জঙ্গিবাদের মদদদাতা, ছাত্র সমাজ, যুব সমাজ ধ্বংসকারী, বিদেশে অর্থ পাচারকারী খুনি তারেক রহমানকে আর চায় না। তাদের দাবি খুনি তারেক রহমানকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করা।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বদিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক জহির উদ্দিন খসরু, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, দফতর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিপ্লব মুস্তাফিজ, উপ-দফতর সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা, উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক অ্যাড. শেখ নবীরুজ্জামান বাবু, উপ-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক এন আই আহমেদ সৈকত, সহ-সম্পাদক এ কে এম মুক্তাদির রহমান শিমুল, কার্যনির্বাহী সদস্য রাজু আহমেদ ভিপি মিরান, বজলুল করিম মীর, ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের সহ-সভাপতি সাব্বির আলম লিটু, মজিবুর রহমান বাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর রহমান, সিদ্দিক বিশ্বাস, শিবলী সাদিক, মামুন সরকার, উপ-দফতর সম্পাদক এ এইচ এম কামরুজ্জামান কামরুলসহ কেন্দ্রীয়, মহানগর ও বিভিন্ন ওয়ার্ড যুবলীগের নেতারা।