দলটির দায়িত্বশীল ও আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতারা বলছেন, আসলাম চৌধুরী ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির যুব শাখার আমন্ত্রণে গিয়েছিলেন। সেখানেই সাফাদির সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক না থাকলেও ভারতের সঙ্গে ইসরায়েলের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে।
তারা এও বলছেন, সরকার এ ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে ভারতের সহায়তা চাইলেই বিষয়টির সত্যতা বেরিয়ে আসবে। পাশাপাশি ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলা হলে আদতে বিজেপি সরকারকেই বিব্রত করা হবে। এ কারণে আসলাম চৌধুরীকে অন্য কোনও প্রসঙ্গে জড়ানোর তৎপরতা শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে বিএনপি।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কূটনৈতিক উইংয়ের সদস্য ইনাম আহমেদ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্যাপারটা বেশিদূর এগোচ্ছে না। ইতোমধ্যে সংবাদপত্রে প্রচার হয়েছে, ভারতের বিজেপি যুব শাখার আয়োজনে একটি অনুষ্ঠানে আসলাম চৌধুরী আমন্ত্রিত ছিলেন। সেখানে ইসরায়েলি লিকুদ পার্টির নেতা মেনদি এন সাফাদিও ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানেই তাদের দেখা হয়।’
ইনাম আহমেদ চৌধুরী দাবি করেন, বিজেপির অনুষ্ঠান নিয়ে নিশ্চয় প্রশ্ন তুলবে না সরকার। ওদের সঙ্গে নিশ্চয় চ্যালেঞ্জ করবে না। ফলে, আশা করছি দ্রুতই এর শেষ হবে। তবে আসলাম চৌধুরীকে অন্যভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: এমপি ও প্রশাসনের নির্দেশেই শ্যামল কান্তিকে বরখাস্ত করা হয়েছে
আরেক উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘পুরো বিষয়টি কাকতালীয়। এখন সরকার ইস্যু করার চেষ্টা করছে। এটা সরকারের নিম্ন রুচির পরিচয়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ফিলিস্তিনের প্রয়াত নেতা ইয়াসির আরাফাতের বন্ধুত্ব ছিল। ওই দেশের ইন্তেফাদার প্রতি আমাদের সমর্থন নিয়ে দেশবাসী জানে। এখন এক নেতার সঙ্গে দেখা হওয়াতেই ষড়যন্ত্র। আসলাম চৌধুরী ভারতের বিজেপির যুব সংগঠনের আমন্ত্রণেই গিয়েছিলেন। একই অনুষ্ঠানে ছিলেন ইসরায়েলের সাফাদি।’
দুদু মনে করেন, সরকার নানা কারণে হতাশ। এ কারণে বিএনপিকে কী দিয়ে সমস্যায় ফেলবে, তা ভাবতে পারছে না।
মঙ্গলবার একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে ইসরায়েলি নেতা সাফাদি বলেন, ‘আগ্রার যে অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর সম্প্রতি দেখা হয়েছিল, তাতে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির যুব শাখা। প্রতিবেশী দেশের একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে আসলাম চৌধুরীও সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন। দুজনের আগে থেকে কোনও পরিচয়ও ছিল না– একই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত দুই অতিথি হিসেবে তাদের মধ্যে স্বাভাবিক আলাপ হয়েছিল মাত্র।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সরকারের প্রভাবশালী একটি গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানায়, সন্দেহের কারণে আসলাম চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এই দুদিনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে সরকারের উৎসাহ ছিল অনেক। সে তুলনায় এখন পর্যন্ত বড় কোনও ইঙ্গিত মেলেনি।
এদিকে বিএনপির কেউ কেউ মনে করেন, এ ঘটনাকে বিএনপি সিরিয়াসলি নেয়। ফলশ্রুতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফিলিস্তিন দূতাবাসে গিয়ে বিষয়টির ব্যাখ্যা করেন। এর আগে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও আসলাম চৌধুরীকে ডেকে ঘটনা সম্পর্কে বিবরণ শোনেন। ওই সময় তাকে সাবধানে চলাফেরা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন খালেদা। ইতোমধ্যে আসলাম চৌধুরীকে সোমবার আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আরও পড়ুন: তদন্ত প্রতিবেদন পেলে সেলিম ওসমানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় পার্টি
বিএনপি সূত্র জানায়, গত ১৯ মার্চ দলীয় সম্মেলনের পর বিএনপির নতুন কমিটিতে যুগ্ম মহাসচিব করা হয় আসলাম চৌধুরীকে। এর আগে কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। তার নতুন পদ পাওয়া নিয়ে চট্টগ্রামে দলীয় নেতাদের কারও কারও মধ্যে চাপা ক্ষোভ আছে। আসলাম চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতিতে অনেকের তুলনায় অপেক্ষাকৃত নবাগত।
চট্টগ্রাম বিএনপির একটি সূত্র জানায়, তারেক রহমানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন আসলাম চৌধুরী। যুগ্ম মহাসচিব পদ পেতে তার সমর্থনই কাজে লেগেছে বলে মনে করেন অনেকে।
তার গ্রেফতারে বিএনপি কী ধরনের সমস্যা ফেস করছে- এমন প্রশ্নে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসলাম চৌধুরীর ঘটনা যতনা ঘটনা, তার চেয়ে বেশি রটনা। এটা নিয়ে বিপদের কিছু নেই। সমস্যা হচ্ছে, ম্যাডামের বয়স হয়েছে। এই বয়সে এসে এ ধরনের ঘটনা কিছুটা তো বিব্রত করেই।’ তবে শিগগিরই বিএনপি এ বিব্রতবোধ কাটিয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই ভিসি।
দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কিছুই বলার নেই। বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দুজনেই জানিয়েছেন, বিএনপির কোনও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে না। সুতরাং মোসাদের এজেন্টের সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর বৈঠকের প্রশ্নই আসে না।’
এসটিএস/এজে/