ঢাকা মহানগর কমিটিকে ঘুরে দাঁড়ানোর পরামর্শ বিএনপির

 

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভাভবিষ্যতে বিএনপিকে আন্দোলন-সংগ্রামে সফল হতে হলে দলের ঢাকা মহানগর কমিটিকেই ঘুরে দাঁড়াতে হবে বলে মনে করছেন দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যরা। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের শূন্যতা যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়েও কমিটির সব সদস্যকেই দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দেন তারা। তৃণমূলে নেতৃত্বের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য কেন্দ্রের নির্দেশনার প্রয়োজন নেই বলেও তারা মত দেন। শনিবার লা মেরিডিয়ান হোটেলে আয়োজিত বিএনপির বর্তমান জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রথম সভায় এমন পরামর্শ দেন তারা। 

শনিবার সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে সভা শুরু হওয়ার পর দুপুর সোয়া একটার দিকে জাতীয় নির্বাহী কমিটির দ্বিতীয় (মূল) অধিবেশন শুরু হয়। দুপুর দু’টার দিকে মধ্যাহ্ন বিরতি দেওয়ার আগে দশ জেলার সদস্যরা আলোচনা করেন।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—কক্সবাজার জেলা সভাপতি মো. শাজাহান চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি শরিফুল আলম, ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি, বান্দরবান জেলা সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সভাপতি কচি মোল্লাহ। বিরতির পর প্রথমেই সভায় আলোচনা করেন রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতি।

নির্বাহী কমিটির সভায় উপস্থিত একাধিক সদস্য জানান, সভায় প্রায় প্রত্যেকেই আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করেই বক্তব্য দিয়েছেন। এছাড়া আন্দোলন-সংগ্রামের ক্ষেত্রে ঢাকাকেই অগ্রগামী হতে হবে বলে মত দিয়েছেন তারা।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন জেলা সভাপতি জানান, বিগত দিনের আন্দোলনে ঢাকা মহানগর বিএনপির ব্যর্থতা ছিল সবচেয়ে বেশি। এক্ষেত্রে আগামী দিনে তৃণমূল আন্দোলন-সংগ্রামে গেলেও রাজধানীতেই মূল সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।’ এক্ষেত্রে আন্দোলনের স্তরবিন্যাস করা জরুরি বলেও মনে করেন তিনি।

ঢাকা বিভাগের একটি জেলার সভাপতি জানান, তিনি নিজেও বক্তব্যে ঢাকার আন্দোলনের কথা উল্লেখ করেছেন। নেতাদের বসে ঠিক করতে হবে, কী সিদ্ধান্ত হচ্ছে।

নির্বাহী কমিটিতে ঢাকাকে শক্তিশালী করার কথা উচ্চারিত হলেও একইদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া খেয়েছেন ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল। এদিন তিনি লা মেরিডিয়ানে প্রবেশ করার আগে তাকে দেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য এগিয়ে এলে তিনি সেখান থেকে চলে যান।

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সভায় দলের চেয়ারপারসনের মামলার বিষয়টি নিয়ে সবাই কথা বলেছেন। আগামী দিনের আন্দোলনের বিষয়টিও উঠে এসেছে অনেকের আলোচনায়।’

জাতীয় নির্বাহী বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্যে খালেদা জিয়া দলের ঐক্যের প্রতি জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি যেখানেই থাকি না কেন, আপনাদের সঙ্গেই আছি।’ খালেদা জিয়া এসময় দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তার ভাষ্য, ‘জিয়াউর রহমানকেও সাধারণ মানুষ ও সৈনিকেরা উদ্ধার করেছিল। তিনি নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ছিলেন।’

খালেদা জিয়া এ সময় তার আলোচনায় নেতৃত্বের বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘যেকোনও স্তরে কোনও গ্রেফতার বা আটক হলে তার পরবর্তী দায়িত্বশীল নেতাই দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন।’

সিলেট মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. শাহরিয়ারের মতে, ‘চেয়ারপারসনের বক্তব্যেই পরিষ্কার, নেতৃত্বের জন্য এখন আর চেয়ে থাকা চলবে না। সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে।’

অনলাইনে ভিডিও রেকর্ডে বক্তব্য দেওয়া তারেক রহমানের আলোচনায়ও এই ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করেন সিলেট বিএনপির প্রভাবশালী এই নেতা।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, ‘খালেদা জিয়া যা বলেছেন, তার ফল ভবিষ্যতে বলা যাবে।’

আরেক উপদেষ্টা তাহমিনা রশীদ লুনার ভাষ্য, ‘আন্দোলনের দিক-নির্দেশনা পেয়েছি।’

শনিবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত বিএনপির নির্বাহী কমিটির সভা চলছিল। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতিও ছিল লা মেরিডিয়ানের আশেপাশের সব পথেই।