সোমবার দুপুরে বিএনপি’র নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা যে মিথ্যাচার করছেন তাতে জাতীয়তাবাদী চিকিৎসকরা চিকিৎসা করলে যে সার্টিফিকেট দেবেন সেখানেও সন্দেহ থাকবেই—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন রিজভী।
তিনি বলেন, ‘তাহলে কী স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের সার্টিফিকেটধারীদের চিকিৎসার বাইরে দেশের মানুষ যেতে পারবে না? দেশনেত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা দীর্ঘ ২০/২৫ বছর ধরে তার চিকিৎসা করছেন। যারা তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক তারা দেশের পেশাদার চিকিৎসক।’
শেখ হাসিনার রক্তাক্ত শাসন থেকে জনগণের দৃষ্টিকে সরাতে প্রতিদিন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের উদ্ভট ও আবোল-তাবোল কথা মানুষকে শুনতে হচ্ছে বলে মনে করেন রিজভী।
তিনি বলেন, ‘কারা কর্তৃপক্ষের টালবাহানায় বিনা চিকিৎসায় কারাগারে বিপন্ন জীবন কাটাতে হচ্ছে খালেদা জিয়াকে। অথচ এ বিষয়ে সরকার নিশ্চুপ-নির্বাক থেকে দলের সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে ঠাট্টা তামাশা করাচ্ছে। সহজাত বিচার বুদ্ধি হারিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা মোহগ্রস্ত হয়ে গেছে।’
খালেদা জিয়া আদালতের বদৌলতে নয়, শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার বদৌলতে কারাগারে বন্দি বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এটাই সর্বজনস্বীকৃত। আদালতের মাধ্যমে তা আনুষ্ঠানিকতা করা হয়েছে মাত্র। তাই দেশনেত্রীর সুচিকিৎসা ও তাকে মুক্তি না দিতে সরকার প্রধান অনিচ্ছুক ও অনমনীয়।’
খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে তার পছন্দ অনুযায়ী ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করারও দাবি জানান বিএনপির এই নেতা।
আসন্ন দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে রিজভী বলেন, ‘আগামী ১৫ মে দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অথচ সরকারের নির্দেশে রাতের বেলায় এ দুই সিটির স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় হানা দিয়ে গ্রেফতার, ক্রসফায়ারের হুমকি দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এখনই সতর্ক না হলে একদিন জনগণের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতেই হবে।’