সোমবার (১ এপ্রিল) দুপুর একটার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএসএমইউ) তিনি এসব কথা বলেন।
আপনি বলছেন খালেদা জিয়া বিশেষায়িত হাসপাতালে যেতে চান, তাহলে কি তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে এখানে আনা হয়েছে , সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা সেটা বলতে পারি না। তবে তিনি এতই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন যে, তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে আনা না হলে, অনেকরকম প্রশ্ন তৈরি হতে পারতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় চার মাস পর আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পরে, তারা মেডিক্যাল বোর্ড নিয়ে খালেদা জিয়াকে দেখতে যান। তারা শুধুমাত্র কথা বলেন তার সঙ্গে। তারপর তার রক্ত পরীক্ষার একমাস পরে আজকে (সোমবার) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।
এই হাসপাতালে খালেদা আসতে চান না বলে দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) মনে করেন, এখানে তার চিকিৎসা হচ্ছে না। এ জন্য আমরা বারবার বলেছি— তাকে একটা বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য। কিন্তু সরকার সেই কথায় কোনও কর্ণপাত করেনি। তাকে আজকেও পিজি (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। ’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অবশ্যই বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হোক। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে যে, কিভাবে তার চিকিৎসা হচ্ছে। আমরা আশা করবো, আজকে সরকার চেষ্টা করবেন— এখানে তাকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা যেন দেওয়া সম্ভব হয়। একই সঙ্গে যেন সবচেয়ে ভালো পরিবেশ তৈরি করা হয়। এই কথাটা আমরা আগেও বলেছি— তাকে যেন এমনভাবে রাখা না হয় যাতে করে তিনি আবারও মনে না করেন যে, বন্দি অবস্থায় তাকে রাখা হয়েছে। তাকে যেন বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হয়।’
এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনাও আছে— যেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে চিকিৎসা করানো হয়। ’
এসময় উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জাহিদ হোসেন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, এর আগে আরও দু’বার খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউ’তে আনা হয়। প্রথমবার ২০১৮ সালের ৭ এপ্রিল তাকে এই হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তখন প্রায় তিনঘণ্টার মতো তার বিভিন্ন পরীক্ষা- নিরীক্ষা করার পর আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর গত বছরের ৭ অক্টোবর পুনরায় তাকে বিএসএমএমইউ’তে ভর্তি করানো হয়। তখন প্রায় ১৭ দিন তিনি হাসপাতালে থাকেন।