বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হোক, মুক্তি দেওয়া হোক। তা না-হলে এই সরকারকে পতনের আন্দোলনের সামনে দাঁড়াতে হবে।
রবিবার (২১ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিএনপির ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটি’ আয়োজিত মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতায় যাদের অবদান, তার মধ্যে মওলানা ভাসানী নিঃসন্দেহ অন্যতম। আমাদের যে অস্তিত্ব, যে স্বতন্ত্র তার নির্মাতা হচ্ছেন মওলানা ভাসানী। দুঃখজনকভাবে তাকে ভুলে যাওয়া হচ্ছে। আমাদের আরেকজন নেত্রী— যিনি আপসহীন গণতন্ত্রের জন্য লড়েছেন। তিনি অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আছেন। তার চিকিৎসা করা অত্যন্ত জরুরি, ডাক্তারা বলেছেন। সেই অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না, সেই সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে না।’
আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ মওলানা ভাসানী মজলুম জননেতা হিসেবে ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত। আজকে যে ক্ষমতাসীন দল, তার প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি মওলানা ভাসানী, তার নাম তারা বলতে চান না। মওলানা ভাসানীকে স্মরণ করে তাকে যতটা না সম্মান করা হয়, তার চেয়ে বেশি সম্মানিত হই আমরা, নিজেরা একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে।’
আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আপনারা ভাবেন মওলানা ভাসানী যদি জীবিত থাকতেন, তাহলে মওলানা সরাসরি সরকারকে বলতে পারতেন— খালেদা জিয়াকে মুক্ত করো। না-হলে আমৃত্যু অনশনে যাবো। প্রত্যেকে মনে করেন আমাদের একেকজনকে মওলানা ভাসানী হতে হবে।’
বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্র গঠনে মওলানা ভাসানীর ভূমিকা রয়েছে। এখন মওলানার কাছ থেকে আমাদের সাহসটা দরকার। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কীভাবে দাঁড়াতে হয়, তা তিনি দেখিয়েছেন।’
মওলানা ভাসানীর স্মৃতিচারণ করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘মওলানা ভাসানী সব আন্দোলনে সবাইকে অস্বীকার করে একক নেতৃত্বে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আজ বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী, অথচ তার নাম নেওয়া হচ্ছে না। বর্তমান সরকার ইতিহাসকে মুছে দিতে চাচ্ছে।’
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, শামসুজ্জামান দুদু, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আবদুস সালামসহ আরও অনেকে।