আন্দোলন আরও তীব্র হবে: কারামুক্তির পর মির্জা ফখরুল

কারাগারে একমাস আটক থাকার পর মুক্তি পেয়েই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন আরও তীব্র হবে। তিনি বলেন, ‘পিছু হটবার পথ নেই। আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবো। তাই আন্দোলন আরও তীব্র করতে হবে। এর মাধ্যমে দেশকে মুক্ত করতে হবে।’

সোমবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব সন্ধ্যা ৬টার কিছু পর কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হন। সেখান থেকে সরাসরি তিনি নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে আসেন। এসময় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী মির্জা ফখরুলকে ফুলের মালা পরিয়ে অভিনন্দন জানান। প্রিয় নেতার মুক্তিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন দলীয় কর্মীরা। এসময় তার সঙ্গে মুক্তি পান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসও।কারামুক্তির পর দলীয় কার্যালয়ের সামনে বক্তৃতা করছেন মির্জা আব্বাস

সন্ধ্যার পর সরাসরি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘প্রিয় ভাইয়েরা, মহান আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা ও আপনাদের আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা মাত্র দুই জন মুক্তি পেয়েছি। আরও অনেকে এখনও কারাগারে। শুধু বন্দি নয়, তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একটা সেলের মধ্য ৫-৭ জনকে গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে৷’

ফখরুলের দাবি, ক্ষমতাসীনরা গ্রেফতার করে ভোটের অধিকারের আন্দোলন বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল, কিন্তু এতে আন্দোলন আরও বেগবান হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সারা দেশ আন্দোলনে প্রকম্পিত হচ্ছে৷ সরকার যত বেশি অত্যাচার করবে ততবেশি মানুষ ফুঁসে উঠবে। পিছু হটবার পথ নেই। আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবো। তাই আন্দোলন আরও তীব্র করতে হবে। এর মাধ্যমে দেশকে মুক্ত করতে হবে। আসুন এই শপথ নিয়ে নতুন অঙ্গীকার করি। বিজয় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলতেই থাকবে।’

এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সমাবেশের স্থান নির্ধারণ নিয়ে অস্থির অবস্থার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়। আমার অপরাধ ছিল আমি সংঘর্ষ এড়িয়ে গেছি। সরকারকে বলবো—বিএনপি সন্ত্রাসী দল নয়।

কারাগারে থাকা অবস্থায় তারেক রহমান তাদের পরিবারের খোঁজ নেওয়ায় ধন্যবাদ জানান তিনি। 

এ সময় অন্যদের মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নবী উল্লাহ নবী, দলের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, যুবদল সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না, বিএনপির মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।