বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর যুগপৎ মহাসমাবেশ শুক্রবার, আসবে নতুন কর্মসূচি

সরকার পতনের এক দফা দাবিতে বিএনপি ও দলটির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা বিরোধী দলগুলোর  মহাসমাবেশ শুক্রবার (২৮ জুলাই)। এদিন দুপুর থেকে রাজধানীর ১৩টি পয়েন্টে আয়োজন করা হচ্ছে সমাবেশের; এগুলোর মধ্যে মূল আকর্ষণ বিএনপির নয়াপল্টনের আয়োজন। এই সমাবেশ থেকেই আসবে নতুন কর্মসূচি, যা আগামী রবিবার (৩০ জুলাই) থেকে রাজপথে গড়াবে। কর্মসূচির ক্ষেত্রে ‘শান্তিপূর্ণ অবস্থান, অবরোধ, বিক্ষোভ, ঘেরাও’ হতে পারে। যা একযুগে যুগপৎ আন্দোলনে শরিক বিরোধী দলগুলোও ঘোষণা করবে।

বিএনপি ও গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা জানিয়েছেন, ধারাবাহিক কর্মসূচি আসবে। সরকারের উদ্দেশ্যে দাবি আদায়ে সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ বেঁধে দেওয়া হতে পারে। যার ভিত্তিতে কর্মসূচিতে পরিবর্তন আসবে।

শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, মহাসমাবেশপরবর্তী আগামী এক থেকে দশদিন সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যেই যেকোনও রেজাল্ট আনার জন্য মরিয়া বিএনপি ও বিরোধী দলের নেতারা। তবে, এক্ষেত্রে সরকারের আচরণও বিবেচনায় নিচ্ছেন নেতারা।

বিএনপির প্রভাবশালী একাধিক নেতা জানান, যেকোনও মূল্যে শান্তিপূর্ণভাবে সামনের কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনও অবস্থাতেই যেন সহিংসতায় না জড়ানো হয়, সেদিকে নেতাকর্মীদের বাড়তি সতর্ক থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, ‘গণজোয়ারের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে। মহাসমাবেশ থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি আসবে।’

তবে কোনও-কোনও নেতা বলছেন, পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা সমাবেশ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হবে। সরকারি দলের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, এর উপর কর্মসূচির পরবর্তী ধরন নির্ভর করছে।

শুক্রবারের সমাবেশ নিয়ে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে অন্তত ১৩টি দল। এরমধ্যে একটি দল বাদে বাকিগুলো বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটের অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণভাবে সকল স্তরের নেতাকর্মী আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। ইনশাআল্লাহ ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে তিনি সফল হবেন।’

শায়রুল কবির জানান, শুক্রবার ১২টি জায়গায় যুগপৎ মহাসমাবেশ হবে। সেগুলো হচ্ছে,  দুপুর ২টায় নয়া পল্টনে বিএনপি; বেলা ৩টায় মৎস্য ভবন সামনে  গণতন্ত্র মঞ্চ; বিকাল ৩টায় কালভার্ট রোড কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে "গণঅধিকার পরিষদ"; বেলা ৩টায় বিজয়নগর পানির ট্যাংকের সামনে "১২ দলীয় জোট"; বেলা ১১টায় পুরানা পল্টন আলরাজী কমপ্লেক্সের সামনে  "জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট"; বেলা ৩টায় মতিঝিল নটরডেম কলেজ উল্টো দিকে চত্বরে "গণফোরাম ও পিপলস পার্টি"; বিকাল ৪টায় "গণঅধিকার পরিষদ" (ডক্টর  রেজা) জাতীয় প্রেস ক্লাব সামনে; বেলা ৩টায় কাওরানবাজার এফডিসি সংলগ্ন এলডিপি অফিস সামনে  "এলডিপি";  সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে "গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য"; বেলা সাড়ে তিনটায়  বিজয়নগর পানির ট্যাংক সংলগ্ন  "লেবার পার্টি"; বেলা ৩টায় মালিবাগ মোড় হোসাফ টাওয়ার সংলগ্ন  "এনডিএম"; সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব সামনে  "জাতীয়তা সমমনা পেশাজীবী জোট"।

যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত না থাকলেও এককভাবে কর্মসূচি দিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি। দলের সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মনজু জানান, তার দলের প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি শুক্রবার সকাল ১১টায় বিজয়-৭১ চত্ত্বরে হবে।

আরও পড়ুন:

মহাসমাবেশ থেকে আসছে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচি