সংস্কার শেষ করে সসম্মানে বিদায় নিতে হবে: আসাদুজ্জামান রিপন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ‘মেহমান সরকার’ উল্লেখ করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, কোনও বাড়ির লোক মেহমানকে অনেকদিন বেড়াতে দেখতে চায় না, একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বেড়ানো শেষ করতে হয়। বর্তমান সরকারকে সেই জিনিসটা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে এবং জনপ্রিয়তা থাকতে থাকতে সংস্কারকাজ শেষ করে মেহমানের মতো সসম্মানে বিদায় নিতে হবে।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ৭ দফা বাস্তবায়ন নাগরিক কমিটির উদ্যোগে ‘দেশ পুনর্গঠনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, বর্তমান সরকারকে বলা হয় মধ্যবর্তী সরকার, অর্থাৎ ইন-বিটুইন সরকার। দুই সরকারের মধ্যবর্তী যে সরকার তারাই হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার বা মেহমান সরকার। তাদের প্রয়োজন হলো নির্বাচন দেওয়ার জন্য কতগুলো পদক্ষেপ নেওয়া এবং কতগুলো বিষয়ে সংস্কার নিশ্চিত করা। মনে রাখতে হবে, ৫ আগস্টের মানুষের মনোজগৎ আর ৫ আগস্টের পরের মানুষের মনোজগৎ সমান নয়। উভয়ের কথা মাথায় রেখেই তাদের সংস্কার কাজ করতে হবে। কোনও বাড়ির লোক যেমন মেহমানকে অনেকদিন বেড়াতে দেখতে চায় না, একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বেড়ানো শেষ করতে হয়, বর্তমান সরকারকে সেই জিনিসটা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে এবং জনপ্রিয়তা থাকতে থাকতে সংস্কার কাজ শেষ করে মেহমানের মতো সসম্মানে বিদায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে নির্বাচনব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা এবং আর্থিক খাতগুলো সব ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রফেসর ইউনূস যেহেতু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান এবং বিশ্বে ব্যতিক্রমী অর্থনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত, সারা বিশ্বব্যাপী তার গ্রহণযোগ্য রয়েছে, তার উচিত হবে দেশের এই ক্রান্তিকালে বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আনা এবং দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করা। বর্তমান সরকার একটি নিরপেক্ষ সরকার। তারা তাদের নিরপেক্ষতা যতদিন বজায় রাখতে পারবেন ততদিন মানুষ তাদের মাথার উপর রাখবে। যদি কোনও কারণে নিরপেক্ষতা হারান তাহলে তাদের পক্ষে নিরপেক্ষ নির্বাচন দেওয়া সম্ভব হবে না। সেক্ষেত্রে এই সরকারের উপর মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হবে।

নতুন দল দিয়ে জনগণের প্রত্যাশাপূরণ সম্ভব না মন্তব্য করে রিপন বলেন, এই সরকারের মধ্য থেকে নতুন করে দল গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। আমরা বলবো, দল গঠন করতে চাইলে ১০০ ভাগ গঠন করার অধিকার আছে। দেশের যে কেউ নতুন দল গঠন করতে পারেন। কিন্তু তার জন্য অবশ্যই তাদেরকে সরকার থেকে পদত্যাগ করতে হবে। কারণ নতুন দল গঠন করলে তাদের দিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব না।

বিএনপি’র এই ভাইস চেয়ারম্যান আরও বলেন, গণহত্যাকারী কোনও দলের রাজনীতি করার অধিকার থাকে না। এই গণহত্যার জন্য শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার করতে হবে। তার আগে দেশের আদালতে তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাত দফা বাস্তবায়ন নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মো. জহিরুল ইসলাম কলিমের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেন শাহিনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, এনপিপি’র চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি নুরুল হক নুর, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এহসানুল হুদা, গণদলের চেয়ারম্যান এ.টি.এম গোলাম মাওলা চৌধুরী, এনডিপি চেয়ারম্যান ক্বারী আবু তাহের, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান এম.এন শাওন সাদেকী, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক পার্টি চেয়ারম্যান এস এম শাহাদাৎ, বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আলমগীর হোসেন, প্রজন্ম একাডেমির সভাপতি কালাম ফয়েজী, বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ শিপন, সাধারণ সম্পাদক এস এম মিজানুর রহমান, এনডিপির মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, আবু হায়দার মো. সিদ্দিকুর রহমান, রমিজ উদ্দিন রুমী প্রমুখ।