বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আজকের শোভাযাত্রা থেকে আমরা প্রমাণ করবো—বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হচ্ছে বিএনপি। ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেদিন ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছিলেন জিয়াউর রহমান। আধিপত্যবাদকে পরাজিত করেছিলেন। এই দিন স্বাধীনতা রক্ষার দিন।’
শুক্রবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর নয়া পল্টনে আড়ম্বরপূর্ণ র্যালি শুরু হওয়ার আগে সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যের পর র্যালি উদ্বোধনের ঘোষণা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
৭ নভেম্বর উপলক্ষে ফখরুল আরও যোগ করেন, ‘এদিন বাংলাদেশের হাল ধরেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, তারপর হাল ধরেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া, আর এখন হাল ধরেছেন তারেক রহমান।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার দোসর অনেকে এখনও দেশে রয়ে গেছে। তারা ঘাপটি মেরে বসে আছে। তারা আবার বাংলাদেশকে আক্রমণ করবে। আমরা যেকোনও অপশক্তিকে উৎখাত করতে প্রস্তুত আছি। এর জন্য সবসময় ঐক্যবদ্ধ আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো।’
‘বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র ছাড়া অন্য কিছু চলবে না’ বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বিএনপি মহাসচিব।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এতে অংশ নেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ডা. জাহিদ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।
বিগত বেশ কয়েক বছরের মধ্যে এবারই অনুকূল পরিবেশে ৭ নভেম্বর পালন করছে বিএনপি। দিবসটিকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন আগে থেকেই সারা দেশে পোস্টারিং, প্রচারণা চলেছে। বৃহস্পতিবার ৭ নভেম্বর অফিস ডে থাকায় শুক্রবার র্যালি করছে বিএনপি। র্যালিতে রাজধানীসহ আশপাশের এলাকা থেকেও বিপুল সংখ্যক দলের অনুসারীরা এসেছেন। মিনি ট্রাকে করে সিনিয়র নেতারা র্যালিতে অংশ নেন।
শুক্রবার নয়া পল্টন থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৫টা ২০ মিনিটে এই প্রতিবেদন লেখার সময় র্যালি চলছিল।
৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার থাকায় আজকে ছুটির দিনে র্যালি করছে বিএনপি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, এক ঘণ্টার মধ্যে র্যালি শেষ হবে।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সংঘটিত সৈনিক ও জনতার এক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার দৃশ্যপটে আসেন জিয়াউর রহমান। দিনটিকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে বিএনপি। দিবসটি কেন্দ্র করে বাণী দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।