সাত বছর আগে ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ কাউন্সিলে গঠিত নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ওই সভার পর আজ বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে যখন এই কমিটির দ্বিতীয় বর্ধিত সভা হচ্ছে তখন তিনি লন্ডনে ছেলে তারেক রহমানের বাসায়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেখান থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভায় সভাপতিত্ব করবেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিএনপির বর্ধিত সভা শোক প্রস্তাব দিয়ে শুরু হবে। এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।’
দলের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, বিগত সময়ের চেয়ে বিএনপি আগামী দিনে সরকার পরিচালনায় কতটা পরিবর্তন আনবে, বিগত দিনের ‘ভুলভ্রান্তি’; রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ ও পরবর্তী নির্বাচনের জন্য দলের শীর্ষনেতৃত্বের পরামর্শ ও নির্দেশনা থাকবে বর্ধিত সভায়।
এ বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদা হাবিবা বলেন, পুনরাবৃত্তি বা পরিবর্তন, বিগত ১৬ বছরের মতো শাসন যেন বাংলাদেশে আর পুনরাবৃত্তি না হয়। আজকের সভাটি পুরোই সাংগঠনিক। গত ১৫-১৬ বছরে আমরা সেভাবে ধারাবাহিকভাবে সভা করতে পারিনি। নিয়মিত সভা যেভাবে হওয়া উচিত ছিল, তা হয়নি।
বর্ধিত সভায় নির্বাহী কমিটির সদস্য, ২০১৮ সালে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী, সব সাংগঠনিক জেলা, উপজেলার সভাপতি, সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন সময়ে গঠিত উপ-কমিটিগুলোর সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া মনোনয়ন ফরম কিনেছেন এমন ব্যক্তিরাও আমন্ত্রিত সভায়।
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা, জেলা, মহানগর, থানা, উপজেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সদস্য এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা অংশ নিচ্ছেন সভায়।
শায়রুল কবির খান জানান, সভার শেষে ‘প্রথম বাংলাদেশ আমাদের শেষ বাংলাদেশ’ প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হবে। এটি তৈরি করেছে ‘বর্ধিত সভা বাস্তবায়ন মিডিয়া উপ-কমিটি’। সভা ঘিরে ‘আস্থা’ নামে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছে বিএনপি। দ্বিতীয় অধিবেশনে তৃণমূলের নেতারা বক্তব্য দেবেন।
বৃহস্পতিবার সকালে শায়রুল কবির খান বলেন, ৫ আগস্টের পর অনুষ্ঠিত বিএনপির এই বর্ধিত সভা দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
এবারের পরিবেশ নিয়ে নেতাকর্মীরা অনেক উজ্জীবিত। অনুকূল পরিবেশ ও সম্ভাব্য দেশ পরিচালনার বিষয়টি সামনে রেখে আগতরা বলছেন, ভবিষ্যতের দেশ নতুন বাংলাদেশ। বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বিগত ১৬ বছর ধরে যে চাপ ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বিএনপিকে যেতে হয়েছে, এবার সেই চাপ নেই বলে জানান আমন্ত্রিতরা।
সাইফ মাহমুদের ভাষ্য, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ ঐক্যের বার্তা দেবেন।
বৃহস্পতিবার সকালে এ প্রতিবেদন লেখার সময় বর্ধিত সভার মঞ্চে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত হয়েছেন। আমন্ত্রিতরা নির্ধারিত অবস্থানে রয়েছেন।