দেশ গড়তে তারেক রহমানের ‘স্বপ্ন’ আছে: মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে তারেক রহমানের ভাবনাকে ‘ড্রিম’ হিসেবে দেখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  সোমবার (৪ আগস্ট) এক আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘‘আমরা আশা করছি, আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেব আমাদেরকে যে পথ দেখাচ্ছেন, যে কথাগুলো বলছেন অর্থনীতি সম্পর্কে, রাজনীতি সম্প… তিনি দেশের সামনে যে স্বপ্ন তুলে ধরছেন সেই স্বপ্ন শুনে আমার একটি কথাই মনে হয় মার্টিন লুথার কিং-এর সেই ঐতিহাসিক কথা … ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’।”

“‘তারেক রহমান হ্যাজ এ ড্রিম’। ইনশাল্লাহ, সেই ড্রিম নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো এবং আমরা জয় করবো এবং উই শেল ওভার কাম, ইনশাল্লাহ।”

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ আমি আহ্বান জানাতে চাই, আসুন আমরা পরস্পর পরস্পরকে কাঁদা ছোড়াছুড়ি না করে, আমরা এই যে একটা সুযোগ পেয়েছি, বাংলাদেশে আবার গণতন্ত্রকে তৈরি করবার, বাংলাদেশকে আবার অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করবার… আসুন সবাই মিলে একসাথে কাজ করে বাংলাদেশকে সেই দিকে এগিয়ে নিয়ে যাই, মাথা উঁচু করে দাঁড়াই। ইনশাল্লাহ, আমরা সফল হবো।”

ষড়যন্ত্র চলছে

পাশাপাশি গণতন্ত্র উত্তরণের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে’ উল্লেখ করে সকলকে সর্তক থাকার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আজকে একটা ষড়যন্ত্র চলছে, একটা চক্রান্ত চলছে যে, দেশে আবার একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করবার, দেশে একটা ষড়যন্ত্র তৈরি করবার– যেন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ট্রানজিশন সঠিক মতো না হয়।”

‘‘কিন্তু আমরা এটা বিশ্বাস করি… যুবদল, ছাত্রদল যতদিন তারা টিকে থাকবে ততদিন এই দেশে এই গণতন্ত্রকে ধ্বংস করবার কোনও শক্তি কখনও জয়ী হতে পারবে না।”

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকতা দিতে এবং অর্থনীতিকে সচল করতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পদক্ষেপ তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘গণতন্ত্রের যতগুলো কাঠামো আছে সেই কাঠামোকে শক্ত ভিত্তিতে দাঁড় করানোর কাজটা বিএনপি করেছে, অর্থনীতিতে যে পরিবর্তন, অর্থনীতিতে যে উন্নয়নের লক্ষ্য সেটাও করেছেন এই বিএনপি দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব এবং আমাদের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া রহমান সাহেব।”

বিএনপিকেই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘এখন একটা আমরা ট্রানজিশনাল পিরিয়ডে আছি। যখন আমরা গণতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটা স্বপ্ন দেখছি, সুযোগ দেখছি। আমাদের সামনে এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যে একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি, একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত রাজনৈতিক কাঠামো… সেটাকে আবার ভিত্তি তৈরি করে, তাকে তৈরি করে আমাদেরকে আবার সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।”

‘‘যখনই দেশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, যখনই অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যায়, তখনই বিএনপি সেই দায়িত্বে এসে পড়ে এটাকে আবার পুনর্গঠন করার জন্য। প্রতিদিন সময় তাই ঘটেছে। আজকে এখন আবার যা মনে হচ্ছে তাতে করে বিএনপিকেই হয়তোবা সেই দায়িত্বটা নিতে হবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।”

তিনি বলেন, ‘‘ আমি আহ্বান জানাতে চাই, আসুন আমরা পরস্পর পরস্পরে কাঁদা ছোড়াছুড়ি না করে, আমরা এই যে একটা সুযোগ পেয়েছি, বাংলাদেশে আবার গণতন্ত্রকে তৈরি করবার, বাংলাদেশকে আবার অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করবার… আসুন, সবাই মিলে একসাথে কাজ করে আমরা বাংলাদেশকে সেই দিকে এগিয়ে নিয়ে যাই, মাথা উঁচু করে দাঁড়াই। ইনশাল্লাহ আমরা সফল হবো।”

রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী যুব দলের উদ্যোগে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও আমার না বলা কথা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়। এতে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যুবদলের নিহত ৭৮ শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ও আর্থিক সহযোগিতা তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। জুলাই-অভ্যুত্থানের ওপর কবিতা আবৃত্তি করেন নাসিম আহমেদ।

 ‘আরেক নাটক শুরু করেছে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘‘একটি কথা শুনলাম, মাজেদ নাকি সাজেদ একজন মেজর… দেশে বসে চক্রান্ত করছে সরকারকে বিপদে ফেলতে কিংবা দেশে একটা ঘটনা ঘটাবে। এই সমস্ত চক্রান্ত কিন্তু আমরা বুঝি।  এগুলো একটি বানানো নাটক শুরু করেছেন যাতে নির্বাচনটা পেছানো যায়, যাতে নির্বাচনটা না হয়।”

‘‘ কিন্তু একটা কথা মনে রাখবেন, দেশের মানুষ ১৭ বছর আন্দোলন করেছে ভোটের জন্যে। এই ভোট এই সরকারের কাছ থেকে আমরা আদায় করেই ছাড়বো। সরকারের পেছনে সরকারের ভেতরে-বাইরে যতই ষড়যন্ত্র চলুক কোনও ষড়যন্ত্রকেই বিএনপি অপ্রতিরুদ্ধ মনে করে না।”

তিনি বলেন, ‘‘ইনশাল্লাহ, আমরা আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৭ বছরের মতোই আগামীতে প্রয়োজন পড়লে আরও ১৭ বছর আন্দোলন করবো। কিন্তু, কোনও অরাজক পরিস্থিতি কিংবা কোনও স্বৈরশাসককে আমরা প্রতিষ্ঠিত হতে দেবো না।”

‘‘আমি স্বৈরশাসনের কথা বলছি এই কারণে কয়েকটা বাচ্চা ছেলে-পেলের মুখের কথায় মনে হচ্ছে তারা যা বলবে তাই দেশের লোকের মানতে হবে। আমরা তাদের বাপ-দাদার চাকর-বাকর মনে হয়। দেশের মানুষকে তারা মানুষ মনে করেন না, দেশের নেতৃবৃন্দকে তারা নেতৃবৃন্দ মনে করেন না। মনে করেন তারাই এই নেতা। কারণ গদির লোক পেয়ে গেছেন তো। এরা আর ক্ষমতা ছাড়তে চান না।”

জাতীয়তাবাদী যুব দলের সভাপতি এম আবদুল মোনায়েম মুন্নার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেহেদি আমিন, মানবাধিকারকর্মী সাইয়েদ আবদুল্লাহ, যুবদলের রবিউল ইসলাম নয়ন, দীর্ঘদিন গুম হয়ে থাকা অ্যাডভোকেট সোহেল রানা, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সায়েম আল মনসুর ফয়েজী, শহীদ মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে আপন, ইয়াহিয়া আলীর মেয়ে তাইয়েবা খাতুন, হাফিজুর রহমান সুমনের স্ত্রী বিথী আখতার, নাদিম মিজানের স্ত্রী তাবাসসুম আখতার নেহা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে যুবদলের সাবেক নেতৃত্ব গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বরকত উল্লাহ বুলু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাইফুল আলম নিরব ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকু উপস্থিত ছিলেন।