জুলাই সনদের বিষয়ে আইন ও সংবিধান সংশোধন নির্বাচিত সরকার করবে: রিজভী

জুলাই সনদের বিষয়ে আইন ও সংবিধান নির্বাচিত সরকার সংশোধন করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, প্রশাসনের মধ্যে ফ্যাসিবাদী শক্তি নানাভাবেই ঘাপটি মেরে বসে আছে। তারা সুযোগ পেলেই অন্তর্বর্তী সরকার ও গণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে কাজ করবে।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে রবিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে রিকশা ও ভ্যানচালদের রেইন কোর্ট বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়া পরিষদের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।

জাতীয় নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়ে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, নানাভাবেই আমাদের সমাজের একেবারে মাটির গভীরে ফ্যাসিবাদ অবস্থান করছে অবৈধ টাকা ও অস্ত্র নিয়ে। নির্বাচনের আগে ওইসব অস্ত্র যদি উদ্ধার করতে না পারে অন্তর্বর্তী সরকার, তাহলে নির্বাচন বিপজ্জনক হবে। তাই অবিলম্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে।

রিজভী বলেন, এই প্রশাসনের মধ্যে ফ্যাসিবাদী শক্তি নানাভাবেই ঘাপটি মেরে বসে আছে। তারা সুযোগ পেলে অন্তর্বর্তী সরকার ও গণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে কাজ করবে। যারা রাজনীতি নিয়ে গবেষণা করেন, তারা দেখছেন আজ সচিবালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় উদ্দেশ্য নিয়ে বসে আছেন এবং বিভ্রান্ত তৈরিতে তারা কাজ করছেন।

মানুষ বেকার থাকলে দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শোনা যাবে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, একের পর এক কল-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যদি মানুষের কর্মসংস্থান না থাকে তাহলে দুর্ভিক্ষের আলামত তৈরি হবে। আপনাদের দু-একজন উপদেষ্টা হয়তো হাঁসের মাংস খেতে পারবেন যেকোনও জায়গায় কিন্তু জনগণ তো আর হাঁসের মাংস খেতে পারবে না। সেই আলামত, সেই পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয় সেদিকে অন্তর্বর্তী সরকারকে নজর দিতে হবে। গার্মেন্টস সেক্টর থেকে ১ লাখ লোকের চাকরি চলে গেছে, কারণ অনেক ফ্যাসিবাদের দোসর মিল-কারখানার মালিক। আমাদের দল থেকে বারবার বলা হয়েছে, মিল-কারখানা যেন বন্ধ না হয়। প্রয়োজনে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।

রিজভী বলেন, আপনারা জুলাই সনদের বিষয়ে কথা বলছেন। জুলাই সনদে যে সুপারিশ আসবে সেখানে যদি আইন সংশোধন করতে হয়, সংবিধান সংশোধন করতে হয় সেটা নির্বাচিত পার্লামেন্ট করবে। একটি রাজনৈতিক দল বলছে, আগেই গণভোট দিতে হবে, কিন্তু কেন? যদি মূল নীতিমালায় কোনও পরিবর্তন করতে হয়– মূলনীতিমালা একটা অখণ্ড বিষয়, তারপরও সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সংশোধন করা যায়। কিন্তু সেটা তো করবে পার্লামেন্ট। শেখ হাসিনা যেমন গায়ের জোড়ে চালিয়েছে যে– প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আমার মতের মিল হয়নি অতএব গোয়েন্দা সংস্থার লোকদের পাঠিয়ে পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে হবে। ওই ধরনের আলামত বৈশিষ্ট্য এখন কেন থাকবে? যে নিয়ম ভেঙেছে শেখ হাসিনা সেই নিয়মকে তো আমরা চালু করতে পারি না। আগে অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকার তৈরি করুন, রাষ্ট্রের স্বার্থে গণতন্ত্রের স্বার্থে সংবিধান সংশোধন করতে হলে সেটা তাদের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর আমাদের যে অর্জন তা ধরে রাখতে হবে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি করে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ সুগম করা যাবে না। ১৫-১৬ বছরে জাতিকে অনেক খেসারত দিতে হয়েছে।

রিজভী বলেন, দেলোয়ার হোসেন সাইদী কোনও অপরাধী নন– সুখরঞ্জন বালি এ দাবি করলেও শেখ হাসিনা জোর করে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তাকে দেশ থেকে চলে যেতে বাধ্য করে।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য জ্বালাও-পোড়াও করে ক্ষমতায় এসে নিজেই তা বাতিল করেছে শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা দ্বিচারিতার উদাহরণ।

জিয়া পরিষদের সহ-সভাপতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য দেন– বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফৎ আলী সপু প্রমুখ।