বিএনপিপন্থি কৃষিবিদদের সংগঠন এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যাব) দু’পক্ষের হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনায় কেআইবির মুলতবি সভা পণ্ড হয়ে গেছে। সভাপতিত্ব করা নিয়ে মতবিরোধের জেরে এ ঘটনার সূত্রপাত বলে জানা গেছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে কেআইবির হলরুম-১-এ এ্যাবের সদস্য সচিব শাহাদত হোসেন বিপ্লব ও যুগ্ম আহ্বায়ক ড. শফিকুল ইসলাম শফিকের অনুসারীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় চরম হট্টগোল ও উত্তেজনা বিরাজ করে।
জানা গেছে কেআইবির জরুরি তলবি সভা আহ্বান করেন এ্যাবের সদস্য সচিব শাহাদত হোসেন বিপ্লব। পূর্বনির্ধারিত সময়েই কেআইবির সদস্যরা সভায় উপস্থিত হন। সভার শুরুতেই সভাপতিত্ব করা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এ সময় শাহাদত হোসেন বিপ্লব সভায় সভাপতিত্বের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) সাবেক মহাপরিচালক ইব্রাহিম খলিলের নাম প্রস্তাব করেন।
অন্যদিকে, ড. শফিকুল ইসলাম শফিক বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. এ.এস.এম. গোলাম হাফিজ কেনেডির নাম প্রস্তাব করেন। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়, যা পরবর্তীতে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এ সময় একজন কৃষিবিদ আহত হন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সভা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
কেআইবির কয়েকজন নেতা জানান, ২০০৯ সালের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে নির্বাচন হয়নি। এ সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগপন্থি বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ছিল কেআইবি। বিভিন্ন সময়ে তফসিল ঘোষণা করা হলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের নির্বাচন বারবার স্থগিত হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে আয়োজন করাও স্থগিত হয়।
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর কেআইবির নিয়ন্ত্রণ নেয় বিএনপিপন্থি কৃষিবিদদের সংগঠন এ্যাব। তবে, সংগঠনটির নেতারা নিজেদের মধ্যেই নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে। এরই জের ধরে গত বছরের ১৭ জানুয়ারি একাধিকবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দু’পক্ষ। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ২০ জানুয়ারি লে. কর্নেল (অব.) মো. আব্দুর রব খানকে কেআইবির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর সাত সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। তবে, নির্বাচন কমিশন গঠনের পর থেকেই এ্যাবের একটি অংশ জাতীয় নির্বাচনের আগে কেআইবির নির্বাচন না করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
এরই প্রেক্ষিতে ২০ অক্টোবর কেআইবি কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে সংগঠনটি। এরপর ২৭ অক্টোবর এ্যাবের একদল নেতাকর্মী কেআইবি ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
এ বিষয়ে এ্যাবের যুগ্ম আহ্বায়ক ড. শফিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “সিনিয়র কারও সঙ্গে আলোচনা না করেই পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে মুলতবি সভার আয়োজন করেন সদস্য সচিব। তারপরও আমরা অংশ নেয়। সব সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়ার কারণেই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে, এ নিয়ে বর্তমানে আমাদের মধ্যে তেমন কোনও বিরোধ নেই। আশা করি, আমাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ্যাবের সদস্য সচিব শাহাদাৎ হোসেন বিপ্লব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “কেআইবির প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পরেন। তার পছন্দের সাত কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়ে প্রতি মাসে বেতন বাবদ ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা তুলে নিচ্ছেন। অথচ, আমাদের সাধারণ কৃষিবিদদের চাঁদার টাকা থেকেই এর ব্যয়ভার বহন করতে হয়। মূলত এসব বিষয়ে মুলতবি সভা আহ্বান করা হয়। এতে একটি পক্ষ হট্টগোলের সৃষ্টি করে।”