তবে বৈঠকে কোনও সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা তা পরিষ্কার করেননি কেউই। দুপক্ষই জানিয়েছেন, আলোচনা ফলপ্রসূ। আরও আলোচনা হবে। বৈঠক থেকে বের হয়ে মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ‘সিদ্ধান্ত হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকের বিষয়ে মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) বলবেন।’
মাওলানা রুহুল আমিন বলেন, ‘যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত আলেমদের বৈঠকের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোই মন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। ভাস্কর্য না বানানোসহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে আমাদের প্রস্তাবগুলো যেন বাস্তাবায়ন হয় সে বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বা অন্য যে কোনোভাবে।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পুলিশ ও এনটিএমসি) ড. মো. হারুন-অর-রশিদ বিশ্বাস বলেন, ‘বৈঠকে আলেমরা তাদের কথা বলেছেন। মন্ত্রী মহোদয় মঙ্গলবার বিস্তারিত বলবেন।’
প্রসঙ্গত, ভাস্কর্য নিয়ে দেশের চলমান অস্থিরতা ও জাতীয় সংকট বিষয়ে আলেমদের করণীয় শীর্ষক এক বৈঠক হয় ৫ ডিসেম্বর। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসায় ওই বৈঠকে খ্যাতনামা আলেমরা যোগ দেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা বোর্ড বেফাকের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান।
বৈঠক শেষে বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘সারা দেশের খ্যাতনামা আলেমরা এই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে পাঁচটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। মানব মূর্তি বা ভাস্কর্য যেকোনও উদ্দেশ্যে তৈরি করা ইসলামের দৃষ্টিতে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে মানুষের বিশ্বাস ও চেতনার আলোকে কোরআন সুন্নাহ সমর্থিত উত্তম কোনও বিকল্প সন্ধান করাই শ্রেয়।’
বিকল্প চিন্তা কী প্রশ্নের জবাবে মাহফুজুল হক বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাব আল্লাহর ৯৯ নাম খচিত মুজিব মিনার নির্মাণ করা হোক। এ প্রস্তাবগুলো স্মারকলিপি আকারে প্রধানমন্ত্রীর কাছেও প্রেরণ করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: ভাস্কর্য ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আলেমরা