‘যারা ভোটের নামে ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে তারা বিষধর সাপ’

বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারও ভোটের খেলা শুরু হবে। সেই খেলায় আবার না জানি কত খেলা হবে। যারা এই ভোটের নামে ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে তারা বিষধর সাপ, সুযোগ পেলেই ছোবল মারবে।

শনিবার (৩ জুন) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গনে জেলা যুব মৈত্রীর ষষ্ঠ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘এ দেশের তরুণরাই স্মার্ট বাংলাদেশ গড়বে। কিন্তু জাতীয় বাজেটে সেই তরুণদের বেকারত্বের সমস্যা সমাধানের উপযুক্ত পথ-নির্দেশনা পাওয়া যায় না। জিনিস-পত্রের দাম বেড়ে গেছে। মানুষ মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত হচ্ছে। শুধুমাত্র করোনার সময়েই ৫১ ভাগ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন ঢাকা মহানগরে।’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কথা তুলে তিনি বলেন, ‘শুধু রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে জিনিস-পত্রের দাম বাড়েনি। এর পেছনে রয়েছে অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে ব্যাংক লুট, ঋণখেলাপি, অর্থ ও সম্পদ পাচার। এ সবই সৃষ্টি করেছে আয়বৈষম্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘বলা হয়েছে, দেড় দশকের অর্থনীতির ওপর ভিত্তি করে স্মার্ট বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। কিন্তু বাংলাদেশ কীভাবে স্মার্ট হবে যদি তারুণ্যকে আমরা স্মার্ট করতে না পারি?

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমরা অতীতের অর্জন নিয়ে কথা বললাম। ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়েও বললাম। কিন্তু বর্তমানে দ্রব্যমূল্য, মূল্যস্ফীতি, বিভিন্ন অপশক্তির ছোবল যেখানে; সেখানে দাঁড়িয়ে আমরা বাজেটের কথা বলতে পারি না। বলা হয়েছে, তরুণদের গবেষণার জন্য ১০০ কোটি টাকা বাজেট করা হয়েছে। ২ লাখ ৮২ হাজার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু অংকে দেখা যায় শুভংকরের ফাঁকি। এই কর্মস্থানের কোনও সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা আমরা পাই না। সরকার যদি এগিয়ে না আসে তাহলে তরুণদের উদ্ভাবনী করা সম্ভব না। তরুণরা এগিয়ে গেলেই বাংলাদেশ সত্যিকারের স্মার্ট ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ হবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুব মৈত্রীর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নাসির মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন– বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি তৌহিদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহম্মেদ রুবেল, জেলা ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি কাজী মাসুদ আহম্মেদ।

সম্মেলনে কাজী তানভীরকে সভাপতি ও ফরহাদুল ইসলাম পারভেজকে সাধারণ সম্পাদক করে আগামী দুই বছরের জন্য জেলা যুব মৈত্রীর কমিটি ঘোষণা করা হয়।