যারা কার্যালয়ে যেতে পারে না তারাই প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে: নুর

যারা কার্যালয়ে যেতে পারে না, নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই, তারাই গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মী দাবি করে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর।
 
বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে জাতীয়তাবাদী নবীন দল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। 
 
একই দিন জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে গণঅধিকার পরিষদের আরেক অংশের নেতাকর্মীরা নুরের বিরুদ্ধে এক সংবাদ সম্মেলন করে। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে ড. রেজা কিবরিয়ার সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। 
 
নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা নানা ধরনের খেলা খেলছে অভিযোগ করে নুরুল হক নুর বলেন, ‘বিভিন্ন দলকে ভাঙতে সেসব দলের দলছুট-পদবঞ্চিত নেতকর্মীদের কোরবানির পশুর মতো টাকা দিয়ে কিনছে নির্বাচনে নেওয়ার জন্য বা সরকারের পক্ষে কাজ করার জন্য। গণঅধিকার পরিষদের একটি বড় কেন্দ্রীয় কার্যালয় আছে। আমরা দলীয় সব সংবাদ সম্মেলন সেখানে করেছি। এখন পর্যন্ত কোনও সংবাদ সম্মেলন প্রেসক্লাবে করিনি। যারা কার্যালয়ে যেতে পারে না, নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই, তারাই গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মী দাবি করে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে তারা কী বলেছে, সেটা আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়।’
 
তিনি বলেন, ‘শুরু থেকে আমরা একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থনে প্রথমে দলের আহ্বায়ককে অপসারণের চিঠি দিয়েছি, সাত দিনের ব্যাখ্যার সময় দিয়েছি, তারপর অপসারণ করেছি। আগামী ১০ জুলাই গণঅধিকার পরিষদের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এখন কিছু লোকজন বুঝতে পেরেছে, তারা সুবিধা করতে পারবে না। তারা ষড়যন্ত্র করে অপতৎপরতা চালিয়ে নেতাকর্মীদের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদে তাদের ভবিষ্যৎ নেই। তাই তারা গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে টাকা-পয়সা নিয়ে গণঅধিকার পরিষদকে ভাঙার জন্য কাজ করছে। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, এদের পেছনে গোয়েন্দা সংস্থা আছে।’
 
মোসাদের কথিত এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি অভিযোগ করেন, মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে সরকার সংশ্লিষ্ট অনেকের বৈঠক হয়েছে। তাদের বৈঠকের ভিডিও চিত্রও আছে। সরকারের উদ্বেগ থাকলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিৎ। তার সঙ্গে মেন্দি এন সাফাদির কোনও বৈঠক হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
 
প্রতিমন্ত্রীসহ ৯টি আসন পাওয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘এটা যারা বলেছে, তাদের জিজ্ঞেস করুন। এটা ঠিক যে, বিএনপি একটি ঘোষণা দিয়েছে, তারা ক্ষমতায় গেলে সব আন্দোলনকারী দলকে নিয়ে একটি জাতীয় সরকার করবে। আমরা যেহেতু বিএনপির আন্দোলনে আছি, সেহেতু আমরা আশা করি বিএনপি আমাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকবে। সেক্ষেত্রে বিএনপি যদি ভবিষ্যতে এমপি-মন্ত্রী বানায়, সেটা বানাতে পারে।’
 
গণঅধিকার পরিষদের ভেতরে দুই পক্ষ হওয়ার কারণ কী জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘এখানে অনেকে আছে যারা বিভিন্ন অপকর্মের কারণে দলে কোণঠাসা। তারা অনেকদিন ধরে বিভিন্ন ছোট ছোট দলের সঙ্গে মিলে আরেকটি দল করা, অন্য দলে যোগ দেওয়ার মতো কাজ করছে। সরকার যেহেতু বুঝতে পেরেছে, গণঅধিকার পরিষদ একটি তারুণ্যের শক্তি, তরুণদের দল, আগামীর আন্দোলনের একটি শক্তি হবে। কাজেই এদের বিভ্রান্ত করা, চরিত্র হরণ করা, ভাগ করার ফাঁদ পাতছে। কিছু নেতাকর্মী সরকারের সেই ফাঁদে পা দিচ্ছে।
 
আরও পড়ুন: