বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেছেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। অভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল— সরকার গঠনে সব রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে মতামত নেওয়া হবে। অন্য কোনও দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল কিনা তা আমাদের জানা নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে ছাত্র- জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের আগে আমাদের দল বাসদ ও আমাদের জোট বাম গণতান্ত্রিক জোটের মতামত না নিলেও আমরা এই সরকারকে গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে দেশ পরিচালনার আহ্বান জানাচ্ছি।’
শনিবার (১০ আগস্ট) সংবাদপত্রে দেওয়া এক বিবৃতিতে বজলুর রশীদ ফিরোজ এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই দেশ শাসন করার কথা। বিগত সময়ে শাসক শ্রেণি দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে ফেলেছে। তাই নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার করতে অবিলম্বে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করা এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া শুরু করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি কয়েকটি দাবি করেন সেগুলো হচ্ছে— ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গত তিন/চার দিনে সরকারবিহীন অবস্থায় দেশে যে অরাজক ও নৈরাজ্যজনক সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ,
জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার ও নিহতদের পরিবারকে যথাযথ পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং সব নিহত ও আহতদের প্রকৃত তালিকা প্রকাশ, জান-মালের নিরাপত্তা, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধ এবং দখল হওয়া স্থাপনা উদ্ধার, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত স্থাপনা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া, গণঅভ্যুত্থানে কোনও দলীয় সরকার বিজয়ী হয়নি। তাই সরকারি বিভিন্ন পদে ইতোমধ্যে যেসব দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের অব্যাহতি দিয়ে নির্দলীয়, যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ, নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়াসহ লুটপাট-দুর্নীতি বন্ধ, বিদেশে পাচারকৃত টাকা ফেরত আনা, খেলাপি ঋণ উদ্ধার, দুর্নীতিবাজ, ঋণখেলাপি, অর্থপাচারকারীদের গ্রেফতার, বিচার ও তাদের স্থাবর অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণমুক্ত করে অবিলম্বে এ সব প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা এবং স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া ইত্যাদি।