গণঅধিকার পরিষদের বিভক্ত হওয়া দুই পক্ষকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আগামী সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন সংগঠনটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
শনিবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আল্টিমেটামের ঘোষণা দেন তারা। এ সময় লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন আটিয়া।
লিখিত বিবৃতিতে আল আমিন বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বার স্বাধীনতা লাভ করেছে। এই স্বাধীনতাকে রক্ষার জন্য গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের স্বৈরাচারী ব্যবহারের কারণে, বাংলাদেশের ঐহিত্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে কলুষিত করার কারণে, তারা আজ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া। যা এদেশের গণতন্ত্রের শূন্যতা তৈরি করেছে। ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠে ছাত্র অধিকার পরিষদ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আমাদের এই সংগঠনটি রাজপথে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার কারণে দেশব্যাপী তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। জনগণের ব্যাপক আস্থা অর্জন করতে শুরু করে, যা আগামীর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য জনগণের দল হিসেবে ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।
হঠাৎ করে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। যার দরুণ তৃণমূলে নেতাকর্মীদের গণঅধিকার পরিষদের কার্যক্রমে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, বেশিরভাগ জেলা ও মহানগরে দ্বৈত কমিটির নেতৃত্ব থাকায় জনগণ বিভ্রান্ত হচ্ছে। আমরা গণঅধিকার পরিষদের তৃণমূল পর্যায় থেকে আজ এই রেষারেষি থেকে বের হয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
এসময় তিনি গণপরিষদের কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা যদি ঐক্যবদ্ধ না হন, তাহলে আপনাদের অবস্থা হবে ছোটখাটো চায়ের দোকানদারদের মতো। এখন থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিজেদের মধ্যকার রেষারেষি দূর করে অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা কমিটি ও নিরেপক্ষ শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করে, তাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। না হলে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য তিনটি প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হয়— ১. উভয় পক্ষকে ব্যক্তি আক্রমণ থেকে বিরত থাকতে হবে। ২. অতীতের কার্যক্রম নিয়ে কোনও প্রকার টানাটানি করা যাবে না। ৩. উভয় দলের মূল দলের কেন্দ্রীয় কমিটি স্থগিত করে আলোচনায় বসার জোর আহ্বান।