জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে মামুনুল হকের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটি মনে করে গভীর রাতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া জনগণের সঙ্গে প্রহসনের শামিল। এটি জনগণের প্রতি অর্থনৈতিক আঘাত।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব জনগণের কষ্ট কমানো; কিন্তু বারবার জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে সরকার। জনগণ যখন স্বস্তি চায়, তখন তাদের ওপর নতুন বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গভীর রাতে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ জনগণের সঙ্গে প্রহসনের শামিল।’
মাওলানা জালালুদ্দীন বলেন, ‘জনগণ যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি-গ্যাস সংকট, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং শিল্প-কারখানার স্থবিরতায় দিশাহারা, ঠিক সেই সময়ে গভীর রাতে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে সরকার জনগণের ওপর নতুন অর্থনৈতিক আঘাত হেনেছে। এই সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী এবং এর প্রভাব নিত্যপণ্য থেকে শুরু করে কৃষি, পরিবহন ও শিল্প খাতে ব্যাপকভাবে পড়বে।
তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ বহুমুখী সংকট অতিক্রম করছে। দেশের মানুষ আজ বহুমুখী সংকটের মুখোমুখি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ, হত্যা, অপহরণ ও অপরাধের ঘটনায় জনমনে অস্থিরতা বাড়ছে। অন্যদিকে শিল্প ও উৎপাদন খাত নানা সমস্যায় জর্জরিত। এমন বাস্তবতায় সরকারের দায়িত্ব ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু সরকার জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার পরিবর্তে নতুন অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।’
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আরও বলেন, ‘জনগণের মতামত ও বাস্তব পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করে নেওয়া সিদ্ধান্ত কখনও স্থায়ী জনসমর্থন তৈরি করতে পারে না। সরকারকে মনে রাখতে হবে, জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে উন্নয়নের গল্প শোনানো যায়, কিন্তু মানুষের কষ্টের বাস্তবতা আড়াল করা যায় না।’
তিনি অবিলম্বে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।