পাহাড়ের সমস্যা রাজনৈতিকভাবে সমাধানের আহ্বান

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাহাড়ের সমস্যা রাজনৈতিকভাবে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাবেশের বক্তারা। তারা বলেন, চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক সম্প্রতি গঠিত তিনটি জাতীয় কমিটি বাতিল করে পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে অর্থবহ সংলাপ করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে শুধু নিরাপত্তার দৃষ্টিতে না দেখে রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১৯৯৭ সালের চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর শাহবাগে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন’ আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে এসব কথা বলেন বক্তারা। সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে জাতীয়, নির্বাহী ও পরামর্শক— তিনটি কমিটি গঠনের প্রতিবাদে এ সমাবেশ হয়।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা শুধু পাহাড়ের মানুষের নয়, এটি জাতীয় সমস্যা। পাহাড় অশান্ত থাকলে বাংলাদেশও শান্তিতে থাকতে পারবে না। চুক্তি বাস্তবায়নের পাশাপাশি পাহাড়ের মানুষের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, ‘১৯৯৭ সালের চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নই পাহাড়ের সমস্যা সমাধানের পথ। আমলা ও গোয়েন্দা-নির্ভর কমিটি না করে পাহাড়ের বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে অর্থবহ সংলাপ করতে হবে।’ 

বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, ‘রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তিনটি কমিটি বাতিল করে পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধান করতে হবে।’ 

সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। পাহাড়ের অন্যতম প্রধান সমস্যা ভূমি বিরোধের সমাধান না করে নতুন কমিটি গঠন করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।’ 

ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল বলেন, ‘চুক্তির ২৯ বছর পরও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পাহাড়ের জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।’ 

সভাপতির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যাকে নিরাপত্তার দৃষ্টিতে না দেখে রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে।’ চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক তিনটি কমিটি বাতিল; চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন; অ-পাহাড়ী প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহার; চুক্তি অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন ও কার্যকর; চুক্তি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ; বিধিমালা প্রণয়নসহ পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন দ্রুত কার্যকর; পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সংলাপ এবং ভূমিসহ পাহাড়ের সব সমস্যা সমাধানে বহুপক্ষীয় অর্থবহ সংলাপ শুরুর দাবি জানানো হয়।