চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী: সাইফুল হক

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী ও একতরফা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, লাভজনক টার্মিনাল  অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে তাড়াহুড়া করে করা এই চুক্তি দেশের ইতিহাসে একটি ‌‌‘কালো চুক্তি’র কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত চুক্তি সইয়ের প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

সাইফুল হক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় ও লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’ এর হাতে ইজারা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত কৌশলগত সম্পদ বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ এবং জনস্বার্থের পরিপন্থি। বন্দর রক্ষা কমিটিসহ বিভিন্ন শ্রমিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের জোরালো আপত্তি এবং জনগণের মতামতকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে একতরফাভাবে এই চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে। যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে জনমত উপেক্ষা করে তাড়াহুড়ো করে করা এই চুক্তি দেশের ইতিহাসে একটি ‘কালো চুক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। 

তিনি বলেন, যে টার্মিনাল থেকে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয় এবং যা দেশের আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যের মূল প্রাণকেন্দ্র, তা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়া দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। চুক্তি সইয়ের আগে এর শর্তাবলী, আর্থিক লেনদেন এবং শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়টি জনগণের সামনে স্পষ্ট করা হয়নি। এটি গণতান্ত্রিক নীতমালারও চরম লঙ্ঘন।

তিনি অবিলম্বে এনসিটি পরিচালনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এই চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানান। একইসঙ্গে বন্দর রক্ষা কমিটির ন্যায়সংগত দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, বন্দর ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, শ্রমিক ও অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই শুধু বন্দরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে হবে।