রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ১০৯তম বার্ষিকী ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে সমাবেশ ও মিছিল করেছে দলটি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাসদের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে বিভিন্ন দাবি সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন ও কাস্তে-হাতুড়ি খচিত লাল পতাকা নিয়ে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে গুলিস্তান হয়ে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন দলের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, নিখিল দাস ও শম্পা বসু। দিনের শুরুতে সকাল ৭টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সমাবেশে নেতারা বলেন, ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর মহামতি লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে পৃথিবীতে প্রথম শ্রমিক শ্রেণির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বিপ্লব মানবসভ্যতাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল। সবার জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা বিধান করেছিল। ইতিহাস, দর্শন, শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণায় অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল।
তারা বলেন, ওই ব্যবস্থায় নারীর মর্যাদা ও শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৩৭ সালে রাশিয়া ঘোষণা করেছিল, দেশটিতে কোনো বেকার ও ভিক্ষুক নেই। ১৯২৯ সালের মহামন্দায় উন্নত ধনতান্ত্রিক দেশগুলো যখন ধুঁকছিল, তখন কমরেড স্ট্যালিনের নেতৃত্বে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ার প্রবৃদ্ধি ক্রমাগত বাড়তে থাকে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে নেতারা বলেন, বাংলাদেশ আজ গভীর সংকটে। আকাশচুম্বী বেকারত্ব, ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য, অসহনীয় দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, জানমালের নিরাপত্তাহীনতা, মব সন্ত্রাস, উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির আস্ফালন, নারী ও শিশু নির্যাতন, খুন-ধর্ষণ এবং মাদকের বিস্তার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসম বাণিজ্য চুক্তি করে দেশের অর্থনীতি, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বিএনপি সরকার ওই চুক্তি বাতিল না করে বাস্তবায়ন করছে। এতে দেশের শিল্প, কৃষি ও ওষুধশিল্প ধ্বংস হবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে। ইতোমধ্যে সরকার গ্যাস, বিদ্যুৎ, ডিজেলসহ জ্বালানির দাম দফায় দফায় বাড়িয়েছে।
নেতারা আরও বলেন, লাভজনক চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে। ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত কয়লাখনি ও সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্টে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের মতো পরিবেশবিধ্বংসী অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে।
তারা বলেন, সরকার পে-স্কেল ঘোষণা করে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে। অথচ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করতে মজুরি বোর্ড গঠনে গড়িমসি করায় তীব্র শ্রমিক আন্দোলনের মুখে সরকার বোর্ড গঠন করতে বাধ্য হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলনের ওপর সরকারদলীয় বাহিনী ও পুলিশ ব্যাপক নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছে। তৌফিক নামে একজন শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আন্দোলন ও জীবনদান ছাড়া আজ পর্যন্ত কোনো দিন শ্রমিকের মজুরি বাড়েনি।
সমাবেশে নেতারা বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সারা বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ, আগ্রাসন ও লুণ্ঠন চলছে। এর কবল থেকে মুক্তি পেতে পুঁজিবাদী দুঃশাসন, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন এবং মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করার বিকল্প নেই। শুধু সমাজতন্ত্রই সাম্রাজ্যবাদকে মোকাবিলা করতে পারে বলে তারা মন্তব্য করেন।